ট্রেন বাড়বে কক্সবাজারে, কমবে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাত্রার সময়: প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৩৬
কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারগামী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাত্রার সময় আরও কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। বর্তমানে কক্সবাজার রুটে চার জোড়া ট্রেন চলাচল করলেও যাত্রী চাহিদার কথা বিবেচনায় তা পাঁচ জোড়ায় উন্নীত করার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন কর্ড লাইন নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ ও প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় কমে আসবে।

শনিবার (১ আগস্ট) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে চার জোড়া ট্রেন কক্সবাজারে চলাচল করছে। যাত্রীর সংখ্যা বাড়ায় ট্রেনের সংখ্যাও পাঁচ জোড়ায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন ট্রেনটি ঢাকা-কক্সবাজার নাকি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী রেলওয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত একটি নতুন কর্ড লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমবে এবং যাত্রার সময় কমে আসবে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট।

রেলের জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন নীতির কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রেলের জমিতে নতুন করে কোনো ইজারা দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদ্যমান ইজারাগুলোও পর্যালোচনা করা হবে। যেসব ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা নেই, সেসব ইজারা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে রেলের নিজস্ব জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, রেলপথে সময়নিষ্ঠ সেবা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে যাত্রীসেবা আরও উন্নত করা হবে। ট্রেন নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা দেরিতে চলাচল করছে কেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর সুফল যাত্রীরা শিগগিরই পাবেন।

এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার পৌঁছে ঝিনুক আকৃতির দৃষ্টিনন্দন আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি খাতে দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে সরকার ভাবছে। এ জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রেলওয়ের অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

দুপুরে চকরিয়া রেলস্টেশন পরিদর্শনের সময়ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আইকনিক স্টেশনটি বেসরকারি খাতে পরিচালনার জন্য দেওয়া হলে সেটি কতটা কার্যকর ও জনবান্ধব হবে, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি কক্সবাজারমুখী রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনের সার্বিক অবস্থা, পরিচালনব্যবস্থা এবং যাত্রীসেবার মানও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণের সময় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটা হয়েছিল উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে যেসব গাছ লাগানো হয়েছিল, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোথাও ঘাটতি থাকলে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে তা পূরণ করা হবে।

তিনি বলেন, রেলওয়ে, স্থানীয় সংসদ সদস্য, বন বিভাগ এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে নতুন করে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রেললাইন নির্মাণে পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনমূলক ব্যবস্থাও নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

রেলের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার দাবি, বর্তমান ব্যবস্থায় দরপত্রে দলীয়করণ বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই। এরপরও কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement