জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ৮৩৪ শহিদের নাম

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণে ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করেছে সরকার। রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে প্রায় এক একর জায়গা জুড়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটির গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ জন শহিদের নাম। সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) জুলাইয়ে শহিদদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন জুলাইয়ে শহিদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি ও ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলম।

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে চার ফুট উঁচু এবং ভেতরে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান কেবল নয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৯০ সালের স্বৈরশাসনবিরোধী গণআন্দোলনসহ বাংলাদেশের মানুষের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে এই স্মৃতিস্তম্ভে।

মূল স্তম্ভের নিচ থেকে চারপাশ ঘিরে তৈরি করা হয়েছে একটি সুবিশাল অর্ধবৃত্তাকার ভাস্কর্য দেয়াল। দেয়ালের ডান দিকটা সাজানো হয়েছে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের জ্বলন্ত সব মুহূর্ত দিয়ে। রয়েছে জুলাইয়ে বহুলব্যবহৃত স্লোগান— ‘লাখো শহিদের রক্তে কেনা/ দেশটা কারও বাপের না’।

২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ওসমানী উদ্যান পরিদর্শনে গিয়ে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের বিষয়ে সরকারের আগ্রহের কথা জানান। পরে গত বছরের মে মাসে প্রকল্পটি চূড়ান্ত করা হয়। সম্পূর্ণ ব্যয় সরকারি তহবিল দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে। ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর আসিফ মাহমুদই এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এ বছরের ফেব্রুয়ারি মেয়াদে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পরে নকশা ও পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন এনে প্রকল্পের ব্যয় প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা কমিয়ে আনা হয়।

সোমবার সকালে জুলাইয়ে শহিদদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে স্থাপিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
সোমবার সকালে জুলাইয়ে শহিদদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে স্থাপিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

আধুনিকায়ন হলো ওসমানী উদ্যানও

রাজধানীর পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় উদ্যানটিকে সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণ করে নতুন বৃক্ষরোপণ ও সবুজ দ্বীপ তৈরি করা হয়েছে।

উদ্যানটিতে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণশৌচাগার, পার্কিং ও জলাশয়ের ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুই স্তরে সাজানো উদ্যানটির সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে দ্রুত চলাচলের পথ রয়েছে।

সোমবার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের পাশাপাশি আধুনিকায়ন করা উদ্যানও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement