ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। প্রতি কেজি এলপিজির দাম ২১ টাকা ৯৪ পয়সা বাড়িয়ে ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা করা হয়েছে। ফলে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। সন্ধ্যা ৬টা থেকে এ দাম কার্যকর হবে। গত মাসে অবশ্য প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৩ টাকা কমানো হয়েছিল। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এপ্রিলে দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ দুই দফায় দাম বাড়ানো হয়েছিল।
বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতিও এখন চাপের মধ্যে রয়েছে। অভিযোগ আছে, গত তিন সপ্তাহ ধরে চাহিদার তুলনায় এলপিজির সরবরাহ কম থাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিইআরসি প্রতি মাসে দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে সেই দামে এলপিজি বিক্রি না হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
বিইআরসি জানায়, বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এখন থেকে প্রতি কেজি ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা হিসাব করে নির্ধারণ করা হবে। এর আগে প্রতি কেজির দাম ছিল ১৩২ টাকা ১২ পয়সা। গ্যাস সংকটের কারণে অনেকেই বাসাবাড়িতে রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভর করছেন। ফলে ১২ কেজির সিলিন্ডারই গৃহস্থালিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।
এদিকে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটো গ্যাসের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা, যা আগে ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে দেশে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো প্রতি মাসে এসব উপাদানের দাম প্রকাশ করে, যা সৌদি কার্গো মূল্য বা সিপি নামে পরিচিত। এই সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারকদের চালানের মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দামও হিসাব করে সংস্থাটি।
















