জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন ৪টি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশে নতুন তিন থেকে চারটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এসব প্রকল্পে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) আয়োজনে ‘সাসটেইনেবল পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি: ড্রাইভিং ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্থল ও সমুদ্রভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানিকে (বাপেক্স) শক্তিশালী করে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

নতুন জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে ২০ মিটার ড্রাফটের একটি নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও এলএনজি খালাসের সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক টার্মিনাল স্থাপন করে জ্বালানি হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

কুতুবজোমে চীনা কোম্পানির প্রস্তাব ফেরত

মহেশখালীর কুতুবজোমে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (সিএনইই) এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব গত ১৪ অক্টোবর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ফেরত দেওয়া হয়। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী।

প্রস্তাব ফেরত দেওয়ার কারণ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে কোম্পানিটির প্রস্তাবিত ব্যয় নিয়ে আগে থেকেই সমালোচনা ছিল।

জিটুজি পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাবে ১৫ বছরের চুক্তির জন্য প্রায় ১২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা এবং ২০ বছরের চুক্তির জন্য প্রায় ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল।

গত ১৯ জুন সিএনইই কুতুবজোমে অফশোর এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। এতে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের সক্ষমতা এবং সর্বোচ্চ ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৫ বছরের চুক্তিতে টার্মিনালটির জন্য সিএনইই দৈনিক ৩ লাখ ৪২ হাজার ডলার চেয়েছিল। বর্তমানে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের জন্য সরকারের দৈনিক ব্যয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ডলার এবং সামিটের টার্মিনালের জন্য ২ লাখ ৪৯ হাজার ১১৫ ডলার। সে হিসাবে চীনা কোম্পানিটির প্রস্তাবিত ব্যয় বর্তমান দুই টার্মিনালের তুলনায় প্রায় ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি।

চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দুই টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

নতুন টার্মিনাল নির্মাণ নিয়ে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর এফবিসিসিআই কার্যালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন জানান, মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, দ্রুততম সময়ে টার্মিনাল নির্মাণের সক্ষমতা দেখাতে পারলে মার্কিন কোম্পানির প্রস্তাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

সোমবারের আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আগের সরকারের কাছ থেকে পাওয়া রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা ও বিদেশে ডলার পাচারের মতো সংকট কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য মোহাম্মদ তামিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement