৮০ থেকে ৩৫: তারেকের মন্ত্রিসভায় তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়

নাজমুল ইসলাম হৃদয়
আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০: ৪৭
মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল
মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল

রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন অধ্যায়ে পা রাখল বাংলাদেশ। নতুন এই মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে স্থান পাওয়া ৪৯ সদস্যের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকার গঠনে ‘তারুণ্যের গতি’ এবং ‘অভিজ্ঞতার শক্তি’ উভয়কেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠিত এ মন্ত্রিসভার বয়সের ব্যবধানই বলে দিচ্ছে এটি একটি বহুপ্রজন্মের মেলবন্ধন।

সবচেয়ে প্রবীণ ও সর্বকনিষ্ঠ: সময়ের সেতুবন্ধন

মন্ত্রিসভার সবচেয়ে প্রবীণ সদস্য হলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (৮০ বছর)। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নেতা প্রবীণদের প্রধান অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার ঠিক পরেই আছেন নিতাই রায় চৌধুরী (৭৮ বছর) এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (৭৮ বছর)।

অন্যদিকে তারুণ্যের ঝাণ্ডা উড়িয়ে মন্ত্রিসভার কনিষ্ঠতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নুরুল হক নুর (৩৫ বছর)। এ ছাড়া ঢাকা-৬ আসনের প্রতিনিধি ইশরাক হোসেন (৩৯ বছর) মন্ত্রিসভায় বয়সের দিক থেকে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ। এই দুই তরুণের অন্তর্ভুক্তিতে মন্ত্রিসভায় দেশের বৃহৎ যুবসমাজের সরাসরি প্রতিফলন ঘটেছে।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণ: আধিপত্য কাদের?

৬০ থেকে ৮০ বছর (প্রবীণ ও অভিজ্ঞ): এই গ্রুপে আছেন সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য। মির্জা ফখরুল, আমীর খসরু (৭৬), আব্দুল আউয়াল মিন্টু (৭৭), এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (৭৫)-এর মতো ঝানু রাজনীতিকরা এই দলে। প্রায় ৫৫% সদস্য এই বয়সসীমার।

৫০ থেকে ৬০ বছর (মধ্যবয়সী): প্রায় ৩০ শতাংশ সদস্য এই গ্রুপে। এখানে আছেন শামা ওবায়েদ (৫২), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (৫১), ববি হাজ্জাজ (৫২) এবং আসাদুল হাবিব দুলুর (৬২) মতো নেতারা। তারা মূলত প্রবীণ ও নবীনদের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন।

৩৫ থেকে ৫০ বছর (তরুণ ও উদীয়মান): মন্ত্রিসভার প্রায় ১৫ শতাংশ সদস্য অনূর্ধ্ব ৫০। নুরুল হক নুর ও ইশরাক হোসেন ছাড়াও এই দলে আছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (৪৯), অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (৪৪), মীর হেলাল উদ্দীন (৪২) এবং মো. রাজিব আহসান (৪৩)।

তারুণ্য বনাম প্রবীণদের প্রতিনিধি

তারুণ্যের প্রতিনিধি: জোনায়েদ সাকি (৫২), ববি হাজ্জাজ, এবং নুরুল হক নুর। তারা আধুনিক শিক্ষা ও ডিজিটাল যুগের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাদের অন্তর্ভুক্তি বিএনপি জোটের রাজনীতির নতুন বার্তা দিচ্ছে।

প্রবীণদের প্রতিনিধি: তারা ঐতিহাসিকভাবেই দলের হাল ধরে আছেন। মন্ত্রিসভার তালিকায় দেখা যায়, ড. খলিলুর রহমান (৭১), সালাহউদ্দিন আহমদ (৬৩), এবং মো. আসাদুজ্জামানের (৬৫) মতো ব্যক্তিরা প্রবীণদের নীতি ও অভিজ্ঞতার প্রতিনিধিত্ব করছেন।

নবীন ও প্রবীণদের মেলবন্ধন যেখানে

মন্ত্রিসভার এই কাঠামোতে দেখা যায়, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে অভিজ্ঞ মন্ত্রীর সাথে একজন উদ্যমী প্রতিমন্ত্রী কাজ করছেন।

যেমন—

অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়: এই দুই মন্ত্রণালয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর (৭৬) সাথে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আছেন জোনায়েদ সাকি (৫২)।

শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়: শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিজ্ঞ আ ন ম এহসানুল হক মিলনের (৬৮) সাথে আছেন ববি হাজ্জাজ (৫২)। আর স্বাস্থ্যে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের (৬৩) সাথে তরুণ এম এ মুহিত (৫৪)।

আইন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়: আসাদুজ্জামানের (৬৫) এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামালের (৪৯) এবং মতো দক্ষ আইনজীবীদের সমন্বয় এখানে স্পষ্ট।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ নতুন মন্ত্রিসভার ৫০ সদস্যদের গড় বয়স প্রায় ৬০-এর কাছাকাছি। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই মন্ত্রিসভায় যেমন ৮০ বছরের প্রজ্ঞা আছে, তেমনি ৩৫ বছরের তারুণ্যের তেজও আছে। উত্তরবঙ্গ থেকে আসা মিজানুর রহমান মিনু (৭৫) কিংবা দক্ষিণের মীর শাহে আলম (৬৭) যেমন আছেন, তেমনি তারুণ্যের প্রতিনিধি হয়ে চট্টগ্রামের মীর হেলাল (৪২) বা যশোরের অমিতের (৪৪) মতো নেতারা আগামী দিনের নেতৃত্বের মহড়া দিচ্ছেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement