২ তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: ৬ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। ফাইল ছবি
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। ফাইল ছবি

দুই তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ছয় আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪–এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম বলেন, আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে তা ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারের কাছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— রাহুল (২৩), মো. ডায়মন্ড (২০), আফসার উদ্দিন অনিম (২২), পারভেজ হক পলাশ (২৫), মিনহাজ ওরফে মিনহাজ আবেদীন (২১) এবং মিনহাজ ওরফে বাবু ওরফে মিনহাজ বাবু (২৪)।

আসামিদের মধ্যে রাহুল পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সাজার পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। বাকি পাঁচ আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর সাজার পরোয়ানা দিয়ে তাদের আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলা ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন বিকেলে দুই তরুণী তাদের এক বন্ধুর জন্মদিন উদ্‌যাপন করতে ঢাকার শুভাঢ্যা এলাকার বাসা থেকে বের হন। কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে তারা কেরানীগঞ্জে যান। সেখানকার একটি রেস্তোরাঁয় খাওয়াদাওয়া শেষে রাত পৌনে ১০টার দিকে বাসায় ফেরার জন্য অটোরিকশার অপেক্ষায় ছিলেন।

এ সময় আসামিরা তাদের পথরোধ করেন। দুই তরুণীর বন্ধুদের মারধর করা হয়। ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকাসহ মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর দুই তরুণীকে তুলে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন আসামিরা। তারা ঘটনার ভিডিও ধারণ করে এবং ভুক্তভোগীদের মুঠোফোনও ছিনিয়ে নেয়।

পরে ভুক্তভোগী দুই তরুণীর বন্ধুরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই তরুণীকে উদ্ধার করে। এর চার দিন পর এক ভুক্তভোগীর বাবা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

মামলার পর র‍্যাব মিনহাজ আবেদীনকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা এক ভুক্তভোগীর মুঠোফোনে ধর্ষণের ভিডিও পাওয়া যায়।

তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা-পুলিশ ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। পরে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement