নতুন মামলায় গ্রেপ্তার রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস, জামিন নামঞ্জুর

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আদালতে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস। ছবি: সংগৃহীত
আদালতে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে এবার উত্তরা পশ্চিম থানার একটি ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

এরপর ঢাকার আরেক অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে হরিদাসের পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করেন তার আইনজীবী বাসুদেব গুহ। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেন বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন।

এর আগে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম গত ১২ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেন। ওই রাতেই গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে ওই মামলায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। রিমান্ড শেষে ১৬ জুলাই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গত ২৪ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী ও ওবাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন একটি বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মাসুদ রানা পরদিন হরিদাস চন্দ্র তরণীকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। সে অনুযায়ী এদিন হরিদাসকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ ও জামিন নামঞ্জুরের পর কারাগারে পাঠানো হয়।

ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে ৭৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বাদী মাহবুবুর রহমান ও আসামি ওবাইদুল ইসলাম কলেজজীবনের বন্ধু। তারা উত্তরা ১২ নম্বর এলাকায় থাকেন। ওবাইদুল মাহবুবকে জানান, তিনি অনয় ডেভেলপার কোম্পানির মালিক এবং খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় তার অফিস রয়েছে।

একপর্যায়ে মাহবুবুর রহমান ওবাইদুলের কাছে নিকুঞ্জ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ জন্য তিনি ওবাইদুলকে ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দেন। বাসাটির কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে জানিয়ে ওবাইদুল আরও ১৫ লাখ টাকা চাইলে মাহবুবুর রহমান সেই টাকাও দেন।

কিন্তু এরপর ওবাইদুল ফ্ল্যাট না দিয়ে তাকে ‘ঘোরাতে থাকেন’ এবং টাকা ফেরত চাইলে তা দিতে অস্বীকার করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে মাহবুবুর রহমান ওবাইদুলের নিকুঞ্জের অফিসে যান। তখন ওবাইদুল তাকে জানান, তার ব্যবসায়িক অংশীদার হরিদাস চন্দ্র তরণী সেখানে আসছেন। পরে হরিদাস চন্দ্র তরণী অফিসে গিয়ে মাহবুবুর রহমানকে বলেন, তার কাছে টাকা নেই, তবে ফ্ল্যাট আছে; তিনি ফ্ল্যাট দিতে পারবেন।

মামলায় মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করেছেন, হরিদাস চন্দ্র তরণীর কথায় বিশ্বাস করে তিনি তাকে আরও ৪৫ লাখ টাকা দেন। এভাবে ওবাইদুল ও হরিদাস— দুজন মিলে তার কাছ থেকে মোট ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা নেন। কিন্তু এরপরও তাকে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement