বিশেষায়িত ও স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিটে’র যাত্রা শুরু

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

সাইবার অপরাধ দমন, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বিশেষায়িত ও স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরের ‘হল অব ইন্টেগ্রিটি’তে ইউনিটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

পরে পুলিশ সদর দপ্তরের ‘হল অব প্রাইড’-এ আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তনশীল অপরাধের ধরন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও মেধানির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যেই এই ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

নতুন এই ইউনিটের সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে সাইবার পুলিশ ইউনিট পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে ইউনিটটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

‘সাইবার পুলিশ ইউনিটে’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
‘সাইবার পুলিশ ইউনিটে’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

তিনি জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার (এসপি) বা দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সাইবার পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। থানাপর্যায়ে ওসির নেতৃত্বে সাইবারকেন্দ্রিক সেবা ও তদন্তের জন্য পৃথক সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই), সহকারী সাব-ইনস্পেক্টর (এএসআই) ও কনস্টেবল পদায়ন করা হবে।

অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী, নতুন ইউনিটের মোট জনবল নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৯২ জন। বিদ্যমান পুলিশ বাহিনী থেকে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের পদায়নের পাশাপাশি নতুন নিয়োগের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এই জনবল পূরণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

সাইবার পুলিশ ইউনিটে বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত পুলিশিং কাঠামোর বাইরে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি দক্ষতা নিশ্চিত করতে আউটসোর্সিং ও চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফাইন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্ট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালটেন্ট এবং ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্টসহ বিভিন্ন পদে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের জন্য আলাদা ও আকর্ষণীয় বেতন কাঠামোর ব্যবস্থাও থাকবে।

একই সঙ্গে পুলিশের নিয়মিত বাহিনীতে থাকা তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই ইউনিটে পদায়ন করা হবে। ইউনিটের তদারকি ও পরিচালনায় থাকা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে উচ্চতর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের কাজের অবদানের ভিত্তিতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।

সাইবার পুলিশ ইউনিটের অধীনে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, মানি লন্ডারিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধ, গুজব, আর্থিক অপরাধ, মাদক ও উগ্রবাদের মতো অপরাধ মোকাবিলায় ডিজিটাল ও ফরেনসিক ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। এ বাস্তবতায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সাইবার সরঞ্জামসমৃদ্ধ ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত সাইবার তদন্তে যে সমন্বয়হীনতা ছিল, তা দূর করা হবে। এখন থেকে একটি একক ও সুসংগঠিত কাঠামোর অধীনে সাইবার পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশেষায়িত এই ইউনিটের কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশে সাইবার স্পেসের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে সক্ষমতা আরও বাড়বে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement