হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছেন।
রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ পাহারায় তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয়। পরে তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলাম আবেদনে বলেন, এক দিনের রিমান্ডে আখতারুজ্জামানকে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কিছু তথ্য দিয়েছেন। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন। অন্যদিকে আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল ও জামিন চান। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে জামায়াতের ৩৪ জন প্রতিনিধি সপরিবারে মদিনা থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে আসেন। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে তখন ট্রলি সংগ্রহে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম ভেঙে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে লাগেজ আসতে দেরি হওয়া ও জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-৫ আসনের এমপি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে ডাকেন। সেখানে গিয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার সময় অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তাঁর দিকে এগিয়ে যান এবং রূঢ়, অশালীন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। নির্বাহী পরিচালক পরিস্থিতি ও ট্রলি ব্যবস্থাপনা বোঝানোর চেষ্টা করলেও আখতারুজ্জামান আরও উত্তেজিত হয়ে তাকে মারধর ও ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় এমপি কামাল হোসেন নির্বাহী পরিচালককে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেন। পরে আখতারুজ্জামান উপস্থিত ব্যক্তিদেরও বিমানবন্দরে বেঁধে মারধর করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়ার এবং তারেক রহমানকে তা দেখানোর কথা বলেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাটকে নিয়েও তিনি অশালীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
পরে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী ঘটনার ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় নিরাপত্তা সুপারভাইজার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন কেপিআই এলাকায় ভিডিও ধারণে নিষেধ করলে আখতারুজ্জামান তাঁর কাছে গিয়ে গালিগালাজ ও একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে মামলা করেন।












-adbf69-256x144.webp)




