আয়াসের জামিন শুনানিতে আইনজীবীদের হাতাহাতি, এজলাস ছাড়েন বিচারক

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আল-নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ দুই আসামির জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) শুনানি চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি দেখে বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে ফিরে এসে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন তিনি।
গত ১০ অক্টোবর রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দিতে গিয়ে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আয়াসসহ চারজন গ্রেপ্তার হন। পরে তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষ ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা করে পুলিশ। পরদিন এ মামলায় আয়াসসহ দুজনের তিন দিন এবং অপর দুজনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ বুধবার আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার ওরফে রিমিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল গাফফার হিমেল। অন্যদিকে, দুই আসামির জামিন চেয়ে আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা।
কারাগারে আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। আয়াস অসুস্থ এবং মারজিয়ার একটি সন্তান রয়েছে।’ এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের জামিন দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
মনির হোসেন আরও বলেন, ‘আসামিদের মূল বক্তব্য ছিল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। দেয়ালে ভারতীয় শিল্পীদের ছবি থাকায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা দেশের শিল্পীদের পক্ষে।’
এর বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আদালতকে বলেন, ‘এই আসামিরা অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে। এখানে হঠাৎ করে কেন পাকিস্তান, জিন্নাহ—এসব বিষয় আসবে। আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুখেই কেন কালি দিতে হবে। এর কারণ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের উসকানি দেওয়া এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা। আজ সাত মাস তারা সরকারের বিরুদ্ধে, জনগণের বিরুদ্ধে যথেষ্ট গালাগালি দিয়েছে।
‘তারা এই জেনারেশনকে (প্রজন্মকে) খারাপ করছে। তারা মনে করে, গালাগালি করলেই ভাইরাল হওয়া যাবে। তারা ভালোভাবে কথা বলুক, বক্তৃতা দিক। কিন্তু তারা সব সময় গালাগালি, ভারত, পাকিস্তান এগুলো আনে বারবার। এখানে যারা এসেছে, সবাই জামায়াতের লোক, জামায়াতের আইনজীবী,’ বলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী উচ্চ স্বরে কথা বললে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিচারকের সামনেই তারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে রাষ্ট্রপক্ষের এক আইনজীবীর সঙ্গে হাতাহাতির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী আল মহসিন তৌহিদের শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যায়।
ঘটনাটি দেখে বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী ও আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন পরিস্থিতি শান্ত করেন। বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে বিচারক এজলাসে ফিরে আয়াস ও মারজিয়া খন্দকারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


















