কেএনএফ প্রধানসহ ৯ জনের নামে মামলা, সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়নের অভিযোগ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়নের অভিযোগে কেএনএফের প্রধান নাথান বমসহ ৯ জনের নামে মামলা করেছে সিআইডি। ছবি: কোলাজ
সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়নের অভিযোগে কেএনএফের প্রধান নাথান বমসহ ৯ জনের নামে মামলা করেছে সিআইডি। ছবি: কোলাজ

সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়নের অভিযোগে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) প্রধান নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, কেএনএফের ৪০ হাজার সেট ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম তৈরি বাবদ এক কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানিয়েছে, বুধবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি করা হয়েছে।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে কেএনএফ প্রধান নাথান বমকে। বাকি আসামিরা হলেন— রাঙ্গামাটির মংহলাসিন মারমা ওরফে মং (৩৮); চট্টগ্রামের নিয়াজ হায়দার (৩৯), সাহেদুল ইসলাম (২৭), মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (৫৮), জামালুল ইসলাম (৪৫) ও তৌহিদুল ইসলাম (৩৮); চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোলাম আজম (৪৭); এবং লালমনিরহাটের মতিউর রহমান (৪৩)।

এর আগে কেএনএফের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছিল পুলিশ। ওই সময় জানানো হয়, গত বছরের ১৮ মে রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোজাফফরনগর আবাসিক এলাকায় কেএনএফের পোশাক তৈরিতে নিয়োজিত একজনকে আটক করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হালিশহরের ছোটপুল এলাকা থেকে আরও দুজনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি গুদাম ও একটি তৈরি পোশাক কারখানা থেকে কেএনএফের মোট ২০ হাজার ৩০০ সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ পোশাক উদ্ধার করা হয়। পরে এ নিয়ে সিআইডি অনুসন্ধান শুরু করে।

সিআইডি অনুসন্ধান করে বলছে, কেএনএফের প্রতিনিধি হিসেবে মংহলাসিন মারমা ওরফে মং প্রথমে নিয়াজ হায়দারের সঙ্গে ও পরে তার মাধ্যমে গোলাম আজমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা কাপড় তৈরির জন্য যোগাযোগ করেন ‘ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডে’র সঙ্গে দুটি ক্রয়াদেশের মাধ্যমে এই কোম্পানিকে ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়।

ওয়েল কম্পোজিট থেকে বানানো কাপড় দিয়ে কেএনএফের ৪০ হাজার সেট পোশাকের মধ্যে প্যান্ট ও শার্ট সেলাইয়ের জন্য যোগাযোগ করা হয় ‘রিংভো অ্যাপারেলস’, ‘এনএন ফ্যাশন’ ও ‘নূর ফ্যাশনে’র সঙ্গে। পোশাক সেলাইয়ের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানকে ৭২ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

সিআইডি বলছে, পারস্পরিক যোগসাজশে কেএনএফের পোশাক তৈরির উদ্যোগ ও অর্থায়নের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেলে তারা মামলাটি করেছে। এ আর্থিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement