মাসে ২০-২২ দিন ডিজে পার্টি হতো অতিরিক্ত ডিআইজির সেই ফ্ল্যাটে

রাজধানীর খিলক্ষেতের পুলিশ অফিসার হাউজিং সোসাইটিতে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া ফ্ল্যাটে প্রতি মাসেই ২০ থেকে ২২ দিন থাকত ডিজে পার্টি। সেখানে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা হতো, মাদক সেবনের আয়োজন থাকত। আশপাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা অন্য কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা এ নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে অভিযোগও করেছিলেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য তুলে ধরেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির। অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের বাসায় অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ৮৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, অভিযানে মদ, ইয়াবা, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও অল্প পরিমাণ গাঁজাসদৃশ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানে থাকা একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হাউজিংয়ে বসবাসকারী অন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে এসব আয়োজনে বিরক্ত ছিলেন। পার্টির উচ্চ শব্দে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতো। এই ফ্ল্যাটের গান-বাজনার শব্দ এমনকি মসজিদ পর্যন্ত শোনা যেত।
ডিসি ইলিয়াস কবির জানান, এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের নিবন্ধন করা হতো। ফ্ল্যাটের মূল হোস্ট ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির, কো-হোস্ট ছিলেন মাহবুবুল আলম। জিজ্ঞাসাবাদে মাহবুবুল জানান, ২০২৫ সাল থেকে সেখানে এ ধরনের আয়োজন হয়ে আসছিল। প্রতি মাসে পার্টি হতো ২০ থেকে ২২টি।
অভিযান শুরুর পর তাকে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান ডিসি ইলিয়াস কবির। বলেন, অভিযানের সময়ও হাউজিং সেখানে পার্টি চলছিল। সেখানে ২৬ জন তরুণীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকারদের পাওয়া যায়। পার্টিতে সিসা সেবন, উচ্চ শব্দে গান ও অশালীন নাচ চলছিল। পুলিশ প্রবেশের পর উপস্থিত ব্যক্তিরা দৌড়ে ওপরের তলায় চলে যান। ভবনটির কয়েকটি কক্ষে নারী-পুরুষকে একসঙ্গে পাওয়া যায়।
অভিযানের সময় বেশ কয়েকটি হুইস্কি ও ভদকার বোতল জব্দ করা হয়েছে ওই ফ্ল্যাট থেকে। পাওয়া গেলে ইয়াবা, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, সিনথেটিক মাদক, সিসা ও বিয়ার। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৭ জন তরুণকে এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ২৬ জন তরুণীকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিসি ইলিয়াস কবির বলেন, জহিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়। এ ঘটনায় মামলা হয়নি। পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির বলেন, তিনি বাড়ির মালিক হিসেবে মূল হোস্ট হলেও মূলত কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকে ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাকে সব নিয়মকানুন মেনে চলতে বলা হয়েছিল। কিন্তু মাহবুবুল তাকে অনেক কিছু জানাতেন না বলে দাবি করেন তিনি। পার্টির আয় থেকে পাওয়া ৭০ শতাংশকে ভাড়ার টাকা বলেও দাবি করেন তিনি।
বাড়িটির মালিক হিসেবে অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের নাম প্রকাশ্যে আসার পর তাকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া শাখার এআইজি কামারুম মুনিরা বলেন, ডিবি বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্তে জহিরের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।













-7d5d00-256x144.webp)

