লালমনিরহাটে চিতাবাঘের হামলায় আহত ৪, উদ্ধারে ঢাকা থেকে দল

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ৪৮
লালমনিরহাটে চিতাবাঘের হামলায় আহত ৪, উদ্ধারে ঢাকা থেকে দল

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে চিতাবাঘের আক্রমণে নারীসহ চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাঘটিকে উদ্ধারে সোমবার ঢাকা থেকে প্রশিক্ষিত একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে আজ বিকেল পর্যন্ত প্রাণীটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গত রোববার বিকেল ৪টার দিকে আমঝোল সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হলেন গ্রামের শহিদার রহমানের স্ত্রী শরিফা বেগম (৩০), মৃত মনির হোসেনের ছেলে আফসার হোসেন (৪০) এবং নজরুল ইসলাম (৪৩)। সোমবার নতুন করে সোবাহান (৩৫) নামের আরও একজন আহত হয়েছেন।

গুরুতর আহত শরিফা বেগম জানান, বাড়ির পাশের ধানখেতের আইলে বাঁধা একটি ছাগলের ওপর হামলা করে চিতাবাঘটি। এ সময় তিনি ছাগলটিকে বাঁচাতে গেলে বাঘটি তাঁর ওপর আক্রমণ করে। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের জমিতে কাজ করা লোকজন এগিয়ে আসেন। তখন বাঘের আক্রমণে আরও দুজন আহত হন। পরে প্রতিবেশী ও স্বজনেরা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোনাব্বেরুল হক মোনা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ধানখেতে বাঘ, এলাকায় আতঙ্ক

স্থানীয়দের ধারণা, চিতাবাঘটি বর্তমানে ধানখেতের ভেতরে লুকিয়ে আছে। গ্রামবাসী ফসলের জমি ঘিরে রেখেছেন। রোববার সন্ধ্যার আগে স্থানীয়ভাবে ধারণ করা ড্রোনের ছবিতে বাঘটিকে ধানখেতের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার বিকেল ৪টার দিকে বনচৌকি বিওপির আওতাধীন আমঝোল সীমান্ত দিয়ে ভারতের জঙ্গল থেকে বাঘটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। হামলায় তিনজন আহত হওয়ার তথ্যও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৫ বিজিবির অধিনায়কসহ একটি টহল দল ঘটনাস্থলে রয়েছে।

বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসনের আবেদনে ঢাকা থেকে প্রশিক্ষিত প্রাণী উদ্ধারকর্মীরা এসেছেন। তাঁদের সঙ্গে রয়েছে প্রাণী অচেতন করার জন্য ব্যবহৃত ট্র্যাঙ্কুলাইজার গান। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটে এ ধরনের সরঞ্জাম না থাকায় ঢাকা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

বাঘটি কীভাবে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন

ড্রোনের ছবিতে প্রাণীটিকে চিতাবাঘ বলে মনে হচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, খাবারের সন্ধানে ভারতের জঙ্গল থেকে এটি লোকালয়ে ঢুকেছে। তবে আরেকটি পক্ষের দাবি, ভারতে কাঁটাতারের ওপারে পাচারের সময় প্রাণীটি পালিয়ে এসে লোকালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এসব দাবির কোনোটিই অবশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের দুই পাশে বাঘ বা চিতাবাঘের আবাস গড়ে ওঠার মতো বনাঞ্চল নেই। কয়েক দিন আগে লালমনিরহাট শহরের সামাজিক বন বিভাগের নার্সারি থেকে একটি অজগর উদ্ধারের ঘটনাও তারা উল্লেখ করেছেন।

চিতাবাঘের আতঙ্কে সীমান্তের কয়েকশ একর ধানের ফসল নষ্ট হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। প্রাণীটিকে দেখতে কয়েক হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছেন। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad