রংপুরে পূজামণ্ডপের জমি নিয়ে বিরোধ, হয়নি প্রতিমা বিসর্জন

জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে রংপুর নগরের ঠিকাদারপাড়ায় একটি পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়নি। জমিতে স্থায়ী মন্দির নির্মাণের দাবিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একাংশ বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। অন্যদিকে, জমি খালি করে সব প্রতিমা সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে অবস্থান নেন জমির মালিকপক্ষ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। বিরোধের জেরে সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। পরে তারা সড়ক থেকে সরে গেলেও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। পুলিশ দুই পক্ষকে নিয়ে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০০৭ সাল থেকে দশরথ রায়ের তিন শতক জমিতে মন্দির স্থাপন করে প্রতিবছর দুর্গাপূজা উদযাপন করা হচ্ছে। তবে চলতি বছর পূজা শেষ হওয়ার পরও কালীপ্রতিমাসহ অন্য প্রতিমা রেখে সেখানে স্থায়ী মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পূজা উদযাপন কমিটি। বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের সময় জমির সাবেক মালিক দশরথ সব প্রতিমা সরিয়ে জমি খালি করার দাবি জানান। এ নিয়ে পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে তার বিরোধ বাঁধে।
একপর্যায়ে স্থায়ী মন্দির নির্মাণের দাবিতে পূজা উদযাপন কমিটির লোকজনসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একাংশ প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। অন্যদিকে, জমি খালি করার দাবিতে দশরথ ও তার লোকজন সড়কের অপর পাশে অবস্থান নেন। জমির মালিকপক্ষের দাবি, মন্দিরের পুরোনো ও নতুন সব প্রতিমা সরিয়ে জমিটি তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে।
জমিটির বর্তমান মালিক রিতা রাণী বলেন, “জমিটি আমার স্বামীর পৈত্রিক সম্পত্তি, তিনি সেখান থেকে আমাকে ৩ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। জমিটিতে আমাদের অটো গ্যারেজ আছে, তারা জোর করে এখানে পূজা করত। তখন আমরা গ্যারেজ সরিয়ে নিতাম।”
“আবার পূজা শেষ হলে তারা পূজা মন্ডপ সরিয়ে ফেলতো, আমরা সেখানে পুরোটাই গ্যারেজ করতাম। এখন তারা পুরো জমিই দখল নিতে চায়। সরকার বাহাদুরের কাছে আমার দাবি, আমার জমি আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক,” বলেন রিতা রাণী।
অন্যদিকে, স্থানীয় প্রাণ গোস্বামীর দাবি, স্থায়ী মন্দির নির্মাণের জন্য তিনি জমিটি কেনার বায়না করেছেন। এ জন্য জমির মালিক দশরথকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে বায়নাপত্রও হয়েছে। প্রাণ গোস্বামী বলেন, “আমি জমি বাবদ একলাখ আশি হাজার টাকা জমির মালিক দশরথের কাছে দেই। তার সঙ্গে আমার একটি বায়না দলিলও হয়। সেই বায়না দলিল মূলে আমি এই জমির মালিক।”
“কিন্তু সে আমাকে জমি না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকে। পরে জমি না দিয়ে তার বউ রিতা রানীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়,” বলেন প্রাণ গোস্বামী। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “এখনো মামলা কোর্টে চলমান আছে এবং কোর্ট থেকে আমাদেরকে পূজা করার জন্য অনুমতি দিয়েছে, তাই আমরা এখানে এবারও পূজা করি।”
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার তদন্ত কর্মকর্তা মিলন চ্যাটার্জি বলেন, “পূজা উদযাপন কমিটির লোকজন প্রতিমা বিসর্জন দিতে চান, তবে মন্দির খালি করতে চান না। তারা মন্দিরের দখল ধরে রাখতে চান। অন্যদিকে, জমির মালিকপক্ষ সব প্রতিমা সরিয়ে জমি খালি করার দাবি জানিয়েছে।”
মিলন চ্যাটার্জি জানান, পুলিশ দুপক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

-62abf3.jpg)






-d785fd-256x144.webp)


-635c44-256x144.webp)



