চাকরির নামে ৬৫ লাখ টাকা ঘুষ, সাবেক রেল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

রাজশাহী ব্যুরো
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ রেলওয়ের এক সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ঘুষ গ্রহণের মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযুক্ত সৈয়দ আবজুরুল হক চট্টগ্রামে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পূর্ব) দপ্তরের অধীনে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে রয়েছেন তিনি।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আমির হোসেন রাজশাহীতে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, সৈয়দ আবজুরুল হক ২০১৫ সালের রেলওয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে খালাসি পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের সরকারি পদমর্যাদা অপব্যবহার করেন।

দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০১৩ ও ২০১৫ সালে মোট ৮৬৫টি খালাসি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত সৈয়দ আবজুরুল ২০১৭ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের মে পর্যন্ত সময়ে রাজশাহী থেকে পাঠানো অর্থ একাধিক ধাপে গ্রহণ করেন।

তথ্য অনুযায়ী, এসএ পরিবহনের চট্টগ্রাম শাখার মাধ্যমে অভিযোগকারীর নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অন্তত ৩০ লাখ টাকা পাঠানো হয়। নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আবজুরুল এ অর্থ গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও গ্রামীণফোনের যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরগুলোর মালিকানা আবজুরুলের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) থেকে পাওয়া কল ডিটেইল রেকর্ডে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট সময়ে তার সঙ্গে অভিযোগকারীর নিবিড় যোগাযোগ ছিল।

মামলার নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত আবজুরুল একাধিকবার অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন। ২০১৯ সালের ৭ জুলাই তিনি নোটারি করা অঙ্গীকারনামায় টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে তা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ২০২১ সালের ২৪ মার্চ স্বেচ্ছা জবানবন্দি দেন এবং ২০২২ সালের ২৯ মার্চ নোটারি করা ঘোষণায় অভিযোগকারীর কাছ থেকে মোট ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে কুরিয়ারের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা ও নগদে ৩৫ লাখ টাকা গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আমির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যপ্রমাণে প্রতীয়মান হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিজের পদমর্যাদা অপব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছেন এবং ঘুষ গ্রহণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement