স্রোতের বাড়ার অজুহাতে বারবার বন্ধ নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া ফেরি, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নদীতে হঠাৎ স্রোত বেড়ে যাওয়ায় ‘ফেরি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে’ অজুহাত দেখিয়ে পাবনার নাজিরগঞ্জ ও রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে বারবার ফেরি বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই জেলার যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ দিন ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল এই রুটে। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর আবার ফেরি চলাচল শুরু হলেও ৫ অক্টোবর থেকে তা ফের বন্ধ রয়েছে। ফলে দুই জেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের এই পথে চলাচলকারীদের বিকল্প সড়কপথে ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে সময় ও যাতায়াতের খরচ।
যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। নদীতে স্রোত বাড়লেই পারাপারে সমস্যা দেখা দেয়। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত সক্ষমতার ফেরি না থাকা, পুরনো ও দুর্বল ফেরি, ঘাটের অব্যবস্থাপনা এবং নাব্যতা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রায়ই এই নৌপথে পারাপার ব্যাহত হয়।
তাদের ভাষ্য, নদীতে স্রোত থাকা স্বাভাবিক। তাই স্রোতের মধ্যেও নিরাপদে চলাচল করতে পারে এমন ফেরি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাবনার সুজানগরের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমি নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করি। বেশ কয়েকদিন ফেরি বন্ধ থাকার পর চালু হলো। এখন আবার দেখতেছি বন্ধ। এমন অবস্থায় খুবই বিপদের মধ্যে আছি। কর্তৃপক্ষ এটি দ্রুত চালু করলে সকলের উপকার হবে।’
রাজবাড়ীর যাত্রী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বহুদিন ধরে এই পথে চলাচল করতেছি। মাঝেমধ্যে এমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই পথে আমাদের সময় কম লাগে এবং খরচ বেঁচে যায়। এখন আমাদের ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে গিয়ে সময় ও খরচ বেড়ে যাচ্ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘এই রুটে যে সকল ফেরি চলাচল করে সেগুলোর অবস্থা একদম খারাপ। ঝড় আসলেই মনে হয় ভেঙে যাবে। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি এই রুটে নতুন ফেরি দিয়ে যাত্রী ভোগান্তি দূর করুক।’
তবে বিআইডব্লিউটিসির নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া ফেরি সার্ভিসের ব্যবস্থাপক এম এন এ আল শিবলী বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। নদীতে আবারও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় আপাতত ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, ফেরিগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী। এ নৌপথে চলাচলের উপযোগী ফেরি রয়েছে এবং ফেরি চলাচলের ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত কোনো সমস্যা নেই। তবে নদীর স্রোত স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ফেরি চালানো হবে না। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে আবার ফেরি সার্ভিস চালু করা হবে।

















