কুষ্টিয়ায় সাবেক মেয়রের ওপর হামলা, অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভার সাবেক মেয়র আনোয়ারুল কবির সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথার ক্ষতে ১১টি সেলাই পড়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ হামলার ঘটনায় ভেড়ামারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এস এস আল হোসাইন সোহাগের বিরুদ্ধে হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন আনোয়ারুল কবির। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তা ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন সোহাগ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শহরের গোডাউন মোড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়রের পদ হারান আনোয়ারুল কবির। তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ভেড়ামারা উপজেলা জাসদের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি যুব জোটের সহসভাপতি এবং কেন্দ্রীয় যুব জোটের সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর আগে গত ২৯ জুন নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সব দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি হামলার শিকার হলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভেড়ামারা শহরের গোডাউন মোড় এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন আনোয়ারুল কবির। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে আসা একদল ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তার মাথায় কোপ দেয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে আরও কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
হাসপাতাল থেকে আনোয়ারুল কবির অভিযোগ করেন, নওদাপাড়া এলাকার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এস এস আল হোসাইন সোহাগ, চাঁদগ্রাম এলাকার সিজারসহ কয়েকজন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে।
তার দাবি, জাসদ করে প্রকাশ্যে চলাফেরা করা যাবে না— এমন হুমকি দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতেও সোহাগ তাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছিলেন। হামলার সময় গুলিও ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথায় ১১টি সেলাই লেগেছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দুলাল ও নুরু নামের আরও দুজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তবে আনোয়ারুল কবিরের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন ভেড়ামারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এস এস আল হোসাইন সোহাগ। তিনি বলেন, ‘সম্পর্কে আমরা মামা-ভাগনে। তার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। তিনি যে অভিযোগ এনেছেন, তা সত্য নয়।।’
তিনি বলেন, ‘আমি একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন কাজ কেন করতে যাব? তিনি কেন এমন অভিযোগ করছেন, সেটিও বুঝতে পারছি না। তার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি আগামী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী। এ জন্য সামাজিক কাজ করছি। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তিনি এসব কথা বলছেন।’
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুলির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগও জমা পড়েনি।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, ‘জেনেছি পেছন থেকে আনোয়ারুল কবিরের ওপর আক্রমণ হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




















