নড়াইলে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র: ১৫ মাসের প্রকল্প, শেষ হয়নি ৬ বছরেও

কার্ত্তিক দাস, নড়াইল
লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়ায় নির্মাণাধীন ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। ছবি: রাজনীতি ডটকম
লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়ায় নির্মাণাধীন ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। ছবি: রাজনীতি ডটকম

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী লাহুড়িয়া ইউনিয়নের অনগ্রসর মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২০২০ সালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট একটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১৫ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ছয় বছরেও তা শেষ হয়নি। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সাতবার প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেছেন। ফলে নড়াইল, যশোর ও মাগুরা— তিন জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় দুই লাখ মানুষ এখনো কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি নির্মাণে ২০২০ সালের ৯ অক্টোবর ৪ কোটি ৭২ লাখ টাকার প্রাক্কলন অনুমোদন করা হয়। কার্যাদেশ দেওয়া হয় ফরিদপুরের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স শ্রাবণী কনস্ট্রাকশনকে। পরে ২০২২ সালের ৩০ মে থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ৭ বার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন প্রতিষ্ঠানটির ঠিকাদার।

সরেজমিন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনগ্রসর এই এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের চিকিৎসাসেবার একমাত্র বাতিঘর হিসেবে স্বপ্ন দেখেছিলেন এই কেন্দ্রটিকে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতার কারণে সে স্বপ্ন ভেস্তে যায়। মুমুর্ষ রোগীদের ভ্যান অথবা ইজিভ্যানে করে দূরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হচ্ছে।

লাহুড়িয়া ইউনিয়নের ফুটবল কোচ সৈয়দ শরিফুল ইসলাম ওরফে সরু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘লাহুড়িয়াবাসীকে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে লোহাগড়া উপজেলা সদরে যেতে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এবং নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে যেতে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। জরুরি সময়ে একজন গর্ভবতী নারী বা নবজাতককে ভাঙ্গাচোরা রাস্তা দিয়ে যেতে কতটা ঝুকিপূর্ণ তা ভূক্তভোগী পরিবার ছাড়া কেউ বুঝবে না।’

স্থানীয় এস এম এ আহাদ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সমতল ভূমিতে বসবাস করলেও আমাদের যাতায়াত ব্যবস্থা এতটাই নাজুক যে রোগী আমার যখন-তখন ডাক্তার বহু দূর।এমন ঘটনাও ঘটেছে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাবার পথে মারাও গেছে।’

লাহুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. এস এম কামরুল ওরফে কামরান বলেন, ‘জেলা এবং উপজেলার শেষ সীমানায় বসবাস করায় আমাদের কথা কেউ মনে রাখে না। মানুষ বলে কেউ মনেও করে না। হাসপাতালের নির্মাণ কাজ দেখে ভেবেছিলাম চিকিৎসাসেবার দুর্ভোগ থেকে ইউনিয়নবাসি বাচলো। কিন্তু মাঝ পথে তা বন্দ হয়ে গেল।’ তিনি বলেন, ‘শুনেছি ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত চলে গেছে।’ তিনি মনে করেন, এর জন্য দায়ী ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

কাজের বর্তমান অগ্রগতি

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৮৬ শতাংশ কাজ শেষ করার দাবি করে প্রাক্কলিত ৪ কোটি ৭২ লাখ টাকার মধ্যে ৩ কোটি ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে। ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। বাকি কাজ সম্পন্ন করতে নতুন করে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি) নড়াইলের সহকারি প্রকৌশলী অশোক কুমার দত্ত জানান, ‘আগের ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।’ তিনি দাবি করেন, ‘দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কেন্দ্রটি উন্মুক্ত করা যাবে।’

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
নড়াইলে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র: ১৫ মাসের প্রকল্প, শেষ হয়নি ৬ বছরেও