‘নিরাপত্তা না পেয়ে’ থানায় রুমিন, ওসির সঙ্গে বাদানুবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ৩৬
বৃহস্পতিবার রাতে সরাইল থানায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ছবি: সংগৃহীত
বৃহস্পতিবার রাতে সরাইল থানায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ছবি: সংগৃহীত

সরাইল থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। এ সময় রুমিন অভিযোগ তুলেছেন, ওসি ‘বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন’। অন্যদিকে ওসিও অভিযোগ করেছেন, রুমিন তার আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দেন, গ্রেপ্তার করতে দেন না।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। রুমিন ফারহানার সমর্থকদের অভিযোগ, দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে পুলিশি নিরাপত্তা চেয়েছিলেন রুমিন। কিন্তু ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া তার নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা করেননি।

সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি করে আসা রুমিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। আসনটি বিএনপি জোটের জন্য ছেড়ে দিলে রুমিন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হন। দল তাকে বহিষ্কারও করে। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করে জয়লাভ করেন তিনি।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা না দেওয়াসহ ওসির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সরাইল থানায় যান রুমিন ফারহানা। ঘণ্টাখানেক সেখানে অবস্থান করেন তিনি।

ওসির উদ্দেশে রুমিন বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি স্যার। যাই হোক, সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।’

এ সময় ওসি মনজুর কাদের ভুঁইয়া পালটা অভিযোগ করে বলেন, ‘আপনি তো আওয়ামী লীগের লোকজনকে সবসময় শেল্টার দেন, তাদের ধরতে গেলে আপনি নিষেধ করেন। আমার কাছে লিস্ট আছে। আপনি রাজ্জিকে ধরতে নিষেধ করেছেন।’

রুমিন ফারহানার সঙ্গে যাওয়া এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন। ওসি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। রুমিন ফারহানাও আওয়ামী লীগের কাউকে শেল্টার দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। ওসির উল্লেখ করা রাজ্জি (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জি) আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত বলে জানান তিনি।

জানতে চাইলে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে অস্থিরতা তৈরি করেন। কিছু লোককে শিখিয়ে আজেবাজে কথা বলার জন্য নিয়ে আসেন। উনি বলেছেন, আমি ইটভাটা থেকে টাকা নিই। হাওরে সব ইটভাটা পানির নিচে। আর আমরা পূজায় পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে উনার সঙ্গে পুলিশের একটি দল রাখা কঠিন ছিল।

অন্যদিকে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ওসি বলেছেন, উনি তো নির্বাচিত এমপি, উনার নিরাপত্তা মানুষ দেবে। এ জন্যই মানুষ যা দেখছেন, ওরা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার তো নিরাপত্তা লাগবে। এলাকাটা দাঙ্গাপ্রবণ। দাঙ্গা হওয়ার পরে যখন সব শান্ত হয়, তখন উনারা যান। এ বিষয়গুলোই আমি আজ জানতে এসেছিলাম। উনি যেই ব্যবহার আমার সঙ্গে করেছেন, সেটা একজন নির্বাচিত এমপির সঙ্গে করা যায় না।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad