সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, আমাদের সবার পরিচয় আমরা বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ব্যুরো
আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০২: ২৪
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর রহমতগঞ্জ জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর রহমতগঞ্জ জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ’ বলে কিছু নেই, দেশের প্রতিটি নাগরিকের মূল পরিচয় তারা বাংলাদেশি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামে রহমতগঞ্জ জে এম সেনহল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান—দেশের সব লড়াইয়েই ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন। কোনো আন্দোলনেই মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘সেদিন যুদ্ধের মাঠে শতসহস্র মানুষ, লাখো মানুষ যুদ্ধ করেছিলেন। কয়েক লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। যারা যুদ্ধ করেছিলেন, যারা শহীদ হয়েছিলেন, সেদিন কিন্তু আমরা দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান।

‘আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি, আমরা শুধু দেখেছি তারা মুক্তিযুদ্ধ করছিলেন। তারা দেশকে স্বাধীন করতে চেয়েছিলেন, তারা দেশকে স্বাধীন করেছেন।

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে পড়েছে, তখন ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা রাজপথে নেমেছেন। জনগণের অধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারা আন্দোলন করেছেন। সেসব আন্দোলনেও কে কোন ধর্মের, তা বিবেচনা করা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘সেদিনও কিন্তু আমরা দেখিনি, আমার পাশের কর্মী কোন ধর্মের বা আমার সামনে কিংবা পেছনের কর্মী কোন ধর্মের।’

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই আন্দোলনে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

মা-বোন, শিশু, তরুণ, যুবকসহ লাখ লাখ মানুষ দেশের প্রতিটি জেলায় রাজপথে নেমেছিলেন। তাদের সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেশিদিন আগের কথা নয়, দুই থেকে সোয়া দুই বছর আগের কথা, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাস। এই দেশের মানুষ, এই দেশের ছাত্র-জনতা এক স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। লাখ লাখ মানুষ সমগ্র বাংলাদেশে সেদিন রাজপথে বেরিয়ে এসেছিলেন। মা-বোনেরা বেরিয়ে এসেছিলেন, বিভিন্ন বয়সের মানুষ বেরিয়ে এসেছিলেন, শিশুরা বেরিয়ে এসেছিল, তরুণেরা বেরিয়েছিল, যুবকেরা বেরিয়ে এসেছিল। কেউ কিন্তু আমরা জিজ্ঞেস করিনি, গুলিবিদ্ধ মানুষটি মুসলমান নাকি হিন্দু, নাকি বৌদ্ধ, নাকি খ্রিষ্টান। স্বৈরাচার গুলি করেছে, ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাদের ধরে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছেন। যাওয়ার পথে কেউ মারা গিয়েছেন অথবা যাওয়ার পথে বেঁচে থাকলেও বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন।’

আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা কারও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি। ধর্মের ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এদিন সকাল ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে সেখান থেকে রংপুরে যান তিনি। পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দুটি পথসভায় অংশ নেন এবং রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

পরে বিকেল ২টা ৫৫ মিনিটে সামরিক বিমানে রাজশাহীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দিয়ে ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

রংপুর ও রাজশাহীর পর সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেন তারেক রহমান। রাত ৭টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছান তিনি।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad