শিগগিরই শুরু পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের কাজ, শেষ দ্রুততম সময়ে: প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহী প্রতিনিধি
আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ০৪
মঙ্গলবার রাজশাহীর হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
মঙ্গলবার রাজশাহীর হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু করে দ্রুততম সময়ে শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে রাজশাহীসহ আশপাশের প্রায় ১৪টি জেলার মানুষ উপকৃত হবেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, পদ্মা ও তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কৃষি ও জনজীবনে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুটি নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

তিনি বলেন, “দেশের অগ্রগতির স্বার্থে, কৃষক ভাইদের অগ্রগতির স্বার্থে, মানুষের অগ্রগতির স্বার্থে আমরা দেখেছি, কীভাবে আমাদের পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, কীভাবে এই নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সে কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বাংলাদেশের দুটি বড় নদী— উত্তরাঞ্চলের তিস্তা এবং রাজশাহীর পদ্মায় ব্যারেজ তৈরি করব, যাতে পানির সমস্যা দূর করতে পারি।”

পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “যারা পানির সমস্যা তৈরি করেছে, তাদের সঙ্গে সরকার আলোচনা করবে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর আমাদেরকে যেতে হয় আমরা ততদূর যাব। কিন্তু ইনশআল্লাহ বাংলাদেশের পানির হিস্যা আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করব।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের উদ্যোগের পাশাপাশি পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ যত দ্রুত সম্ভব শুরু ও শেষ করার চেষ্টা করবে সরকার। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রথমে রাজশাহী জেলার মানুষ এবং পরে আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা উপকৃত হবেন।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

জনসভায় বিএনপির প্রতি জনগণের সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ, কৃষকদের সহায়তা, কৃষক কার্ড চালু এবং নারীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা কী চান, আপনাদের নির্বাচিত সরকার বিএনপি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করুক? তাহলে ইনশাআল্লাহ, আগামী পাঁচ বছর বিএনপিকে এই সমর্থন আপনাদের অব্যাহত রাখতে হবে। সমর্থন দেবেন?” এ সময় জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা হাত তুলে তার আহ্বানে সাড়া দেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং রাজশাহী জেলার সংসদ সদস্যরা।

আখচাষিদের ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে তিন নগরী সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে রংপুর সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানকার কর্মসূচি শেষে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বেলা ২টা ৫৫ মিনিটে শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছে সরাসরি জনসভাস্থলে যান তারেক রহমান।

সেখানে রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মধ্যে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ করেন তিনি। কম্পিউটারে ক্লিক করে চাষিদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর কার্যক্রম উদ্বোধনের পাশাপাশি ১৫ জন আখচাষির হাতে চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

রংপুরে সকালে রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছিলেন তারেক রহমান। রাজশাহীতে জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার পর তিনি রাজশাহী ধর্মসভার পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। এরপর সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ শেষে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর। চট্টগ্রামে পৌঁছে জেএম সেন হল ও রহমতগঞ্জ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন তিনি। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাত্রাবিরতি শেষে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad