সীমান্তের ওপার থেকে আসা অর্থ দিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শক্তি সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে এবং দেশের আরেকটি পক্ষ সেই অর্থে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) এক জনসভায় এ অভিযোগ করে দেশবাসীকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, দেশের কয়েকটি স্থানে কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা চলছে। তার দাবি, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শক্তি এসব তৎপরতায় অর্থ জোগাচ্ছে। আর দেশের ভেতরে থাকা একটি পক্ষ সেই অর্থের সহায়তায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ‘টিকিট’ বিক্রির চেষ্টা করা ব্যক্তিদের সঙ্গে এই পক্ষের যোগসাজশ রয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সতর্ক থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বন্ধ হলে মা-বোনেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে প্রচার করা হয়েছিল। এখন সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালু রাখা, খাল খনন এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পক্ষে থাকলে আগামী পাঁচ বছরও বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে যেসব রাজনৈতিক দল ১৯৭১ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে দেশকে ভিন্ন পথে নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন, তাদের ব্যাপারেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করেছিল। তাদের স্মরণে সোমবার ঢাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকেও ধারণ করে। তাই জুলাই আন্দোলনে শহিদদের পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে সরকার। আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণের কথা বলা সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই দলগুলোর কোনো প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। কারণ তারা মুখে জুলাইয়ের কথা বললেও জুলাইকে ধারণ করে না।
এসব ঘটনার মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মতো ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন নিয়েও জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জনসভায় পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু করে দ্রুততম সময়ে শেষ করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে রাজশাহীসহ আশপাশের প্রায় ১৪টি জেলার মানুষ উপকৃত হবেন।
জনসভা থেকে ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য মোট ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বরাদ্দের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ডিজিটাল বোতাম চেপে একযোগে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

-f3a128.jpg)
-ef0702.jpg)
-cbe408.jpg)











