না.গঞ্জে এক নারীকে কুপিয়ে, আরেকজনকে গলা কেটে হত্যা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নিহত মাকসুদা বেগম (বাঁয়ে) ও সুফিয়া আক্তার নিশি (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
নিহত মাকসুদা বেগম (বাঁয়ে) ও সুফিয়া আক্তার নিশি (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে খুন হয়েছেন দুই নারী। তাদের একজনকে কুপিয়ে ও আরেকজনকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে হত্যার ঘটনায় তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আরেক খুনে জড়িতদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

নিহত দুজন হলেন— বন্দরের তিনগাঁও উত্তরপাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে সুফিয়া আক্তার নিশি (২৪) ও মাহমুদপুর এলাকার প্রয়াত নাজির সরদারের স্ত্রী মাকসুদা বেগম (৭২)।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে বন্দরের তিনগাঁও উত্তরপাড়া এলাকার পুরোনো মসজিদসংলগ্ন বাবার বাড়িতে খুন হন সুফিয়া আক্তার নিশি। এ ঘটনায় তার স্বামী আব্দুল মান্নান ওরফে মনিরকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পরিবার সূত্র জানিয়েছে, বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে নিশি ও মনিরের মধ্যে কলহ চলছিল। সোমবার রাতেও এ নিয়ে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ভোরে ঘুমন্ত নিশিকে প্রথমে গলা কেটে ও পরে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন মনির। পরে তিনি নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডেকে আত্মসমর্পণ করেন।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বন্দরের মাহমুদনগর এলাকায় ভাঙারি ব্যবসার পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মাকসুদা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে ছেলে রাসেল (৪২) ও প্রতিবেশী শফিকুল ইসলাম (৬২) আহত হয়েছেন।

মাকসুদার ছেলে জজ মিয়া জানান, তার ভাই নাদিম হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার সাদ্দামের ভাঙারি ব্যবসার পাওনা ২২ লাখ টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সোমবার রাতে নাদিমের পাওনা টাকা চাইতে যান তার মা মাকসুদা বেগম। এ সময় সাদ্দাম ও হাবিউল্লাহ মিয়ার তিন ছেলে সামাউন হাবিব, অলিদ ও খোকনসহ কয়েকজন দেশি অস্ত্র নিয়ে মাকসুদা বেগমের ওপর হামলা চালান। হামলাকারীদের কোপে ঘটনাস্থলেই মাকসুদার মৃত্যু হয়।

ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, মাকসুদার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement