তাহসিফের পরিচয় শনাক্ত হয় পকেটে থাকা আইফোনে

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মরদেহ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধারের পর প্রথমে তাকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে নথিভুক্ত করে নৌ পুলিশ। পরে তার পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নৌ পুলিশের অভ্যন্তরীণ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকার উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিমানে করে দেশত্যাগের সময় ভিডিও ধারণের ঘটনায় আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অজ্ঞাতনামা হিসেবে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। মরদেহের সঙ্গে একটি মুঠোফোন ছিল। সেটির মাধ্যমে তার পরিচয় জানা যায়।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, তারা জানতে পেরেছেন, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার পর কয়েকজনের সঙ্গে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। এরপর আর বাসায় ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরাও তার খোঁজ পাচ্ছিলেন না।
নৌ পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে তুরাগ নদে মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পাওয়া যায়। পরে নৌ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আনুমানিক ২৮ বছর বয়সী এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরনে ছিল সাদা পাজামা ও কালো জামা, হাতে ছিল একটি ঘড়ি। তার পকেটে পাওয়া আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করে বলা যাবে।
তাহসিফ সাউরি সপরিবারে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্ট, ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। আজ বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পরে বিকেল ৪টায় ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।












-2d4226-256x144.webp)
