সরকারি কর্মকর্তাদের অধিকাংশই চোর: স্পিকার

ভোলা প্রতিনিধি
আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০: ২৪
রোববার ভোলায় বিএনপির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
রোববার ভোলায় বিএনপির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের অধিকাংশই চুরি, ঘুস আর লুটপাটে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। তারা নানা ধরনের ঘুষখোরি, লুটপাট এসব করেন। এর ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।’

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা মিলনায়তনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতিযুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দেশের রাষ্ট্রীয় কোষাগার লুট করেছে। বিদেশ থেকে আসা সব সহায়তা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা পর্যন্ত চুরি করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

স্পিকার ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেই রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনে জড়িত সবার সাজা হলেও বাংলাদেশে কারও কোনো সাজা হয়নি।

জুলাইয়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাট, অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট না হওয়ার পেছনেও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়ী করেন হাফিজ উদ্দিন। বলেন, বিগত সরকারের দোসররা এখনো প্রশাসনে বহাল তবিয়তে বসে আছে। এ কারণে প্রকৃত চিত্র এখনো জনগণের কাছে ভালোভাবে পৌঁছাচ্ছে না।

আওয়ামী লীগ আমলের বিপুল লুটপাটের উদাহরণ হিসেবে ওই সময়কার ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সম্পদের কথা তুলে ধরেন স্পিকার। বলেন, বিগত সরকারের এক মন্ত্রীর শুধু লন্ডনেই ৩৬০টি বাড়ি পাওয়া গেছে। পাশাপাশি দুবাই ও আমেরিকায় তাদের সম্পদ রয়েছে। দেশের জনগণের টাকা লুট করে এভাবে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

লুটপাটকারী এ ধরনের দলকে কখনো সমর্থন না করার আহ্বানও জানান হাফিজ উদ্দিন। আওয়ামী লীগ যেন আর দেশের ফিরতে না পারে সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন তিনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে ভারতের দালালি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ভালো থাকুক, তা প্রতিবেশী রাষ্ট্র চায় না। তারা বাংলাদেশকে একটি করদ রাজ্য বানানোর চেষ্টা করছে। বিগত সরকারও ১৬-১৭ বছর দেশের স্বার্থের বদলে প্রতিবেশীর স্বার্থ দেখেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতীয় জাহাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং বিনা শুল্কে বা নামমাত্র শুল্কে পণ্য পরিবহনের মতো অসম চুক্তি করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টুর পরিচালনায় সভায় জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
সরকারি কর্মকর্তাদের অধিকাংশই চোর: স্পিকার