নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দুমকিতে মা-ইলিশ শিকার, অভিযানের খবর আগেই পাচ্ছেন জেলেরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৫: ২১
দুমকিতে দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে মা-ইলিশ শিকার করছেন জেলেরা। ছবি: রাজনীতি ডটকম
দুমকিতে দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে মা-ইলিশ শিকার করছেন জেলেরা। ছবি: রাজনীতি ডটকম

পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পায়রা ও পাণ্ডব নদীতে মা-ইলিশ শিকার করছেন জেলেরা। প্রশাসনের অভিযান এড়াতে নদীর বিভিন্ন স্থানে পাহারাদার বসিয়ে আগেভাগেই অভিযানের খবর সংগ্রহ করছেন তারা। খবর পেলেই দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে সরে পড়ছেন। ফলে নিয়মিত অভিযান চালিয়েও অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করতে পারছে না প্রশাসন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সরেজমিনে উপজেলার পাঙ্গাশিয়া, লেবুখালী, আঙ্গারিয়া, মুরাদিয়া ও লোহালিয়াসংলগ্ন পায়রা নদী এবং পাণ্ডব নদীর বিভিন্ন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জাল ফেলতে দেখা যায় জেলেদের। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করে চলছে ইলিশ ধরা।

নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির ফাঁক গলে সংঘবদ্ধভাবে মা-ইলিশ শিকার করছেন একদল জেলে। অভিযানের গতিবিধি জানতে নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে লোক নিয়োগ করেছেন তারা। এসব ব্যক্তি প্রশাসনের টহল দলের অবস্থান ও চলাচলের তথ্য মুঠোফোনে জেলেদের কাছে পৌঁছে দেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযানে ব্যবহৃত ট্রলার বা স্পিডবোট কোথা থেকে রওনা হচ্ছে এবং কোন পথে যাচ্ছে, তা আগেই জেনে যান জেলেরা। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা জাল তুলে দ্রুত নৌকা নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। কেউ কেউ নদীতীরে উঠে আত্মগোপন করেন। এ কারণে অভিযান চালিয়েও অনেক সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয় না।

স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে এভাবে মা-ইলিশ শিকার চলতে থাকলে মাছটির উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। অবৈধ মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িত চক্রকে চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত কঠোর অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমাদের টহল দল কিছুক্ষণ আগেই ওই এলাকা থেকে ফিরেছে। পুরো উপজেলায় অভিযান পরিচালনার জন্য আমাদের মাত্র একটি টহল দল রয়েছে। জনবল ও অর্থসংকটের কারণে একটি দল দিয়ে উপজেলার সব পয়েন্টে একসঙ্গে নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না।” তবে টহল দলের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, মা-ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিপণন নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement