লিটারে আরও ৬ টাকা ৩২ পয়সা বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম

দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট এ-১-এর দাম লিটারে ৬ টাকা ৩২ পয়সা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে প্রতি লিটারের দাম ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা থেকে বেড়ে ১৮৯ টাকা ৩ পয়সা হয়েছে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইনসের জন্য জেট এ-১-এর দাম প্রতি লিটারে ১ দশমিক ১৮৮২ ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ১৬৩৭ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ দাম বহাল থাকবে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য নির্ধারিত দামের সঙ্গে শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দাম শুল্ক ও মূসকমুক্ত।
ঢাকার হজরত শাহজালাল, চট্টগ্রামের শাহ আমানত, সিলেটের ওসমানী ও কক্সবাজার বিমানবন্দরে নতুন দাম কার্যকর হবে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে যশোর বিমানবন্দরেও এ দাম প্রযোজ্য হবে। ভবিষ্যতে চালু হওয়া বিমানবন্দরগুলোর জন্যও একই মূল্যহার কার্যকর থাকবে।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ৫ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ-১-এর গড় দাম এবং জ্বালানি আমদানির ঋণপত্রের অর্থ পরিশোধে ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে ব্যবহৃত প্ল্যাটস রেট অনুসরণ করা হয়েছে।
বিইআরসি জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও পদ্মা অয়েল কোম্পানির প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে গণশুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৩ মে জেট এ-১-এর মূল্য নির্ধারণের আদেশ দেওয়া হয়। ওই আদেশ অনুযায়ী, প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে।
এ প্রক্রিয়া পর্যালোচনার জন্য ২০২৫ সালের ২৫ মে একটি কমিটি গঠন করে কমিশন। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম, ডলারের বিনিময় হার এবং ডিজেলের দাম পরিবর্তনের কারণে জ্বালানি পরিবহনের খরচে যে ওঠানামা হয়, তা পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটিকে।
কমিটি গত ৫ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য পর্যালোচনা করে নভেম্বরের জন্য নতুন দাম নির্ধারণের সুপারিশ করে। বৃহস্পতিবার ওই সুপারিশের ওপর শুনানি শেষে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য নতুন দাম অনুমোদন করে বিইআরসি।
চার মাসে বেড়েছে ৫৮ টাকা
অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম টানা চার মাস ধরে বাড়ছে। গত জুলাইয়ে প্রতি লিটারের দাম ছিল ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা। আগস্টে ২৮ টাকা ৫৩ পয়সা বাড়িয়ে তা ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা করা হয়। সেপ্টেম্বরে আরও ৬ টাকা ১৩ পয়সা বেড়ে দাম দাঁড়ায় ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সায়। অক্টোবরে ১৭ টাকা ৬ পয়সা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা।
নভেম্বরে আরও ৬ টাকা ৩২ পয়সা বাড়ানোর ফলে চার মাসে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম বেড়েছে ৫৮ টাকা ৪ পয়সা। অর্থাৎ জুলাইয়ের তুলনায় দাম বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
তবে চলতি বছরের এপ্রিলে জেট ফুয়েলের দাম আরও বেশি ছিল। সে সময় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারের দাম উঠেছিল ২২৭ টাকা ৮ পয়সায়। সেই হিসাবে নভেম্বরের নতুন দাম এপ্রিলের তুলনায় ৩৮ টাকা ৫ পয়সা কম।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম কমেছে। অক্টোবরে প্রতি লিটারের দাম ছিল ১ দশমিক ১৮৮২ ডলার। নভেম্বরে তা কমিয়ে ১ দশমিক ১৬৩৭ ডলার করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে দাম কমেছে শূন্য দশমিক ০২৪৫ ডলার বা প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ।
জেট এ-১ উড়োজাহাজে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের জ্বালানি। এর দাম বাড়লে এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে। তবে এর প্রভাব যাত্রীদের টিকিটের দামে পড়বে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর।
এর আগে গত মার্চে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানোর পর এ সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক’ দাবি করেছিল এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)।















-0306e9-256x144.webp)
-dfc065-256x144.webp)
