প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে ঘন ঘন ত্রুটির কারণ জানতে চায় সংসদীয় কমিটি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে ঘন ঘন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। পাশাপাশি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলোর সার্বিক কার্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত কমিটির সদস্যরা।

সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি ও সংসদীয় প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় অনিয়মের দায় নির্ধারণ এবং আইটি খাতের দুর্বলতার কারণে রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সাম্প্রতিক পরিচালন কার্যক্রম ও বিভিন্ন সময়ে উত্থাপিত নিরীক্ষা আপত্তি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।

সরকারি অর্থের অপচয় রোধ, দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন নিরীক্ষা আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন কমিটির সদস্যরা। পাশাপাশি শীর্ষ কর্মকর্তা ও পরিচালনা-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ফ্লাইটের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অতীত ও সাম্প্রতিক বিমান কেনাকাটা, খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহের বিভিন্ন চুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ আইটি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার তাগিদ দেওয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দায় নির্ধারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে এ পর্যন্ত সরকারি কোষাগারে কত টাকা আদায় হয়েছে, কত টাকা এখনো অনাদায়ি রয়েছে এবং অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কতজনের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে কমিটি। নিষ্পত্তি হওয়া ও অনিষ্পন্ন প্রতিটি নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে দাফতরিক প্রমাণসহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

কমিটির উত্থাপিত বিষয়গুলোর ওপর বিস্তারিত লিখিত বক্তব্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-উপাত্ত পরবর্তী নির্ধারিত বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেবিচককে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ), অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বেবিচক ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad