আড়াই লাখ কোটি টাকা লোকসানে ২২ ব্যাংক

দেশের ২২টি ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসান আড়াই লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে ঋণাত্মক মূলধনে রয়েছে ১৫টি ব্যাংক। এ ছাড়া পুরো ব্যাংক খাতেই মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিআরএআর) নেমেছে ঋণাত্মক ৩ দশমিক ১৭ শতাংশে। আর গত জুন মাস শেষে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ পাঁচ লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা।
রোববার (৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যপত্রে ব্যাংক খাতের এ চিত্র তুলে ধরা হয়। এটি ছিল কমিটির চতুর্থ বৈঠক। সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যপত্র অনুযায়ী, পুঞ্জীভূত লোকসানে থাকা ২২ ব্যাংকের মধ্যে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক— জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক। দুটি বিশেষায়িত ব্যাংক হলো— বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।
বাকি ১৫টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের তালিকায় আছে— এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, মেঘনা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এ ছাড়া বিদেশি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানও! লোকসানে রয়েছে।
মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের পরিচালন মুনাফা ছিল ৭৮৯ কোটি টাকা। কিন্তু নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।
১৫ ব্যাংকের মূলধন ঋণাত্মক
এদিকে মার্চ শেষে তফসিলি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ৪০টি ন্যূনতম প্রয়োজনীয় মূলধন সংরক্ষণ করতে পেরেছে। বিপরীতে ১৫টি ব্যাংকের মূলধন ছিল ঋণাত্মক। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে পুরো ব্যাংক খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার হার ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। মার্চে তা আরও ০ দশমিক ৫৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ঋণাত্মক ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ হয়েছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অন্তর্ভুক্ত ২০ হাজার কোটি টাকা হিসাবে নিলে এই হার ঋণাত্মক ২ দশমিক ০৫ শতাংশ হয়। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি আরও নাজুক। মার্চ শেষে এসব ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততার হার ছিল ঋণাত্মক ৪৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, মূলধনের এই দুর্বলতা ব্যাংকের লোকসান সামাল দেওয়ার ক্ষমতা, আমানতকারীর স্বার্থ সুরক্ষা এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করছে।
খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৮১ হাজার কোটি
জুন শেষে ৬১টি তফসিলি ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিম ছিল ১৮ লাখ ৫০ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে শ্রেণিকৃত ঋণ ছিল ছয় লাখ ছয় হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
মার্চ শেষে শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণ ছিল পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। তিন মাসে তা বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।
জুন শেষে খেলাপি ঋণ ছিল পাঁচ লাখ ৮১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩১ দশমিক ৪১ শতাংশ।
মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ ছিল পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ১৩২ কোটি টাকা।
রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৪৭ দশমিক ৩০ শতাংশ ঋণ শ্রেণিকৃত। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে এ হার ৩০ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে সম্ভাব্য ক্ষতি সামাল দিতে যে অর্থ আলাদা করে রাখতে হয়, সেই প্রভিশনে পুরো ব্যাংক খাতের ঘাটতি ছিল দুই লাখ ২২ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা।












-588a39-256x144.webp)


