৫ আগস্টের পরে যদু-মধু-কদু এসে সর্বেসর্বা হয়ে গেছে: উমামা ফাতেমা

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর ‘যদু-মধু-কদু এসে সর্বেসর্বা হয়ে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা। জুলাইয়ের ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ আন্দোলনকে ‘ভাই-ব্রাদার কোরাম আর শিবিরের’ হাতে বন্দি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মার একসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথি’ ছিলেন— ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে এ তথ্য প্রকাশের পর গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন উমামা।
উমামা তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ১৭ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের সাথে ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা মানুষ উড়ে এসে নেতা হয়েছে। সালাউদ্দীন আম্মার তাদের অন্যতম।’
জুলাই আন্দোলনের সময় সমন্বয়ক কমিটি গঠন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন উমামা। লেখেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় সকল ছাত্র সংগঠনকে মাইনাস করে শিবির ও ছাত্রশক্তি কোরামের (গুপ্তশিবির) লোকজনকে সমন্বয়ক কমিটির অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তার কারণে ৫ আগস্টের পরে যদু-মধু-কদু এসে সর্বেসর্বা হয়ে গেছে।’
আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘যেই শুয়োরের বাচ্চারা জুলাই এর স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে ভাই-ব্রাদার কোরাম আর শিবিরের হাতে বন্দি করছে, তোদের উপর আল্লাহর গজব পড়ুক। মোনাফেকের দল। বিএনপি খারাপ, ওর খারাপ চোখে দেখা যায়। দেশকে নিয়ে আন্দোলনের পর যারা ছেলেখেলা করছে তারা সব দখল করতে চাইছিল।’
বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সালাহউদ্দিন আম্মারের ‘সাথি’ পদ বাতিল করে। এর আগে রাকসু নির্বাচনে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ নামের একটি প্যানেল ঘোষণা করেছিলেন সাবেক সমন্বয়করা।
ওই প্যানেলটি শিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ বা ‘ছায়া দল’ কি না, সে প্রশ্নের জবাবে তখন সালাহউদ্দিন আম্মার বলেছিলেন, “আমার কাছে এই কথাগুলোকে অযাচিত বলে মনে হয়। কারণ আমার বিশ্বাস, শিবির কখনোই এমন কোনো প্যানেল গঠন করবে না যেটা তাদের নিজেদের নয়। তারা আলাদা প্যানেল দিয়েছে। আমরা আলাদা দিয়েছি। এখানে ‘ডামি’ বা ‘ছায়া দল’ হওয়ার কোনো সুযোগই নেই।”
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আম্মারকে বহিষ্কারের তথ্য এমন সময়ে প্রকাশ্যে আনা হয়েছে, যখন রাকসুর বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হতে আর এক মাস বাকি।
উমামা তার পোস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার কন্টেন্টগুলোকে আমি মোটেও নিরীহভাবে দেখিনা। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ফেসবুক ম্যানিপুলেশন যথেষ্ট, তাই পর্দার আড়ালের ইন্টারেস্ট গ্রুপগুলা সময়ে সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জুলাই এর নামে ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট জেনারেট করে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘তরুণদের মধ্যে হিরো হিসেবে ম্যানুফ্যাচারড ফিগার আছে অনেক, যারা তরুণদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দি করতে কাজ করছে।’ মিয়ানমারের উদাহরণ টেনে উমামা লিখেছেন, ‘আমি মায়ানমারের দিকে তাকালে ভয় পাই। রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য ফেসবুক অত্যন্ত এফিশিয়েন্ট টুল ছিল।’
এর পেছনে মধ্যবিত্তের রাজনৈতিক অনাগ্রহ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। উমামার ভাষায়, ‘এগুলা সম্ভব হইছে আমাদের মধ্যবিত্তের-I hate politics থেকে জুলাইএ হঠাৎ চোখ ফুটার কারণে, আর সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানিপুলেট করে আজকে একে তো কালকে ওকে হিরো বানানোর কারণে।’
জামায়াতে ইসলামী নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন উমামা। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের জার্নি এতদিন ছিল ৫০ বছরের। এখন তো জামায়াতের কারণে হিস্ট্রি ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকে শুরু করতে হয়। একদল মোনাফেকের হাতে পড়ছে দেশের রাজনীতি। জামায়াত আর আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য নেই। জামায়াত তাদের গণহত্যার কালিমা ঢাকতে দেশকে যেকোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে রাজি আছে।’













-ef2993-256x144.webp)





