‘বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ না হওয়া পর্যন্ত কর্নেল তাহেরের উত্তরসূরীরা সংগ্রাম চালিয়ে যাবে’

সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের ৫১তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, একটি বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত কর্নেল আবু তাহেরের উত্তরসূরীরা তাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাসদের এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শ্রমিকনেতা আবদুল কাদের হাওলাদারের সভাপতিত্বে সভায় আলোচনায় অংশ নেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, বাদল খান ও করিম সিকদার। এছাড়া সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন।
সভায় সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের স্থপতি শহীদ কর্নেল আবু তাহেরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে নেতৃবৃন্দ বলেন, অতীতে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পারস্পরিক রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বের কারণে দেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছিল। রাষ্ট্রের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এর ফলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। একটি নৈরাজ্যকর অবস্থা থেকে পরিত্রাণ লাভের উদ্দেশ্যেই কর্নেল আবু তাহেরের নেতৃত্বে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছিল। তৎকালীন জাসদ নেতৃত্বও এ উদ্যোগকে সমর্থন দিয়েছিল বলে জানান নেতারা।
বাংলাদেশ জাসদের নেতারা অভিযোগ করেন, সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে লক্ষ্য ও প্রত্যাশা সামনে এসেছিল, পরবর্তী ক্ষমতাসীন সরকার তা পূরণ করেনি। তাঁদের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। তাঁরা দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সুফলভোগী ক্ষমতাসীন সরকারগুলো ধর্মীয় ফ্যাসিবাদকে উসকে দিয়ে ওই আন্দোলনের অর্জন ও চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
নেতারা বলেন, দেশে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। শহীদ কর্নেল আবু তাহেরের আদর্শ ও সংগ্রামের ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তাঁরা।
সভায় বাংলাদেশ জাসদের প্রয়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মইন উদ্দিন খান বাদলের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।














-f1a2a3-256x144.webp)
