আখতারুজ্জামানের রাজনীতির একাল-সেকাল

দেশের চলমান রাজনীতিতে এখন অন্যতম আলোচিত নাম মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। বিমানবন্দরের এক ঘটনায় আলোচনায় আসেন তিনি। সে ঘটনার জের ধরে মামলার পর গ্রেপ্তার হয়েছেন। আদালতের নির্দেশে এক দিনের রিমান্ড শেষে এখন রয়েছেন কারাগারে।
সাবেক এই সংসদ সদস্যের দলবদলের রাজনীতির কারণে আলোচনায় রয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ থেকেই। ওই সময়ই বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন এই সদস্য একসময় সুপরিচিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ থাকার কারণে, যিনি জামায়াতকে রীতিমতো ডাকতেন ‘রগ কাটার দল’ বলে। সেই আখতারুজ্জামানই এখন জামায়াতের হয়ে সরকারের মুখোমুখি।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখানে ৮ নম্বর লাগেজ বেল্টের কাছে যাত্রীদের ভিড়, ট্রলির সংকট আর অসন্তোষের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের দিকে উত্তেজিত ভঙ্গিতে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
ওই মামলায় শুক্রবার গ্রেপ্তার হন আখতারুজ্জামান। তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত শুনানি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে রোববার ফের তাকে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামায়াতে যোগ দেওয়ার এক বছরও হয়নি। এর মধ্যে তিনি জামায়াতের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন, তাদের সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা বিএনপিকে ধমকেছেন। বলেছেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলার আগে তার জবান কেটে দেওয়া উচিত। রাজনীতিতে পক্ষ বদল স্বাভাবিক হলেও আখতারুজ্জামানের জামায়াতে যোগ দেওয়ার আগের ও পরের অবস্থানের তীব্র বৈপরীত্য রাজনৈতিক মহলকে বিস্মিত করেছে।
একজন বিএনপি নেতা
আখতারুজ্জামানের জন্ম ১৯৫১ সালে, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে। ইতিহাস বলছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ৩ নম্বর সেক্টরে কমান্ডার মেজর কে এম শফিউল্লাহর অধীনে যুদ্ধ করেছেন।
জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দল হিসেবে যাত্রার শুরুর সময়েই বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন আখতারুজ্জামান। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন একসময়। কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন। ২০০১ ও ২০১৮ সালেও নির্বাচন করেছিলেন একই আসন থেকে, তবে জিততে পারেননি।
বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, দলের ভেতরে কখনোই নির্ভার সদস্য ছিলেন না আখতারুজ্জামান। ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নিয়ে দলের বিপরীতে কথা বলায় প্রথমবার বহিষ্কৃত হন তিনি।
২০০০ সালে সংসদ বর্জনের দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়, দ্বিতীয়বার বহিষ্কৃত হন দল থেকে। ২০১৪ সালে তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগে তৃতীয়বার, এরপর জ্যেষ্ঠ নেতাদের সমালোচনায় চতুর্থবারও দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন এই নেতা।
আখতারুজ্জামানের দলীয় বহিষ্কারাদেশ অবশ্য প্রতিবারই প্রত্যাহার হয়েছিল। তবে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি একটি টক শোতে দলের নেতাদের ‘জুতাপেটা’ খাওয়ার কথা বলার পর পঞ্চমবার বহিষ্কৃত হলে আর দলে ফেরা হয়নি তার।
জামায়াতের চিরচেনা বিরোধী
বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পুরোটা সময়ে জামায়াত নিয়ে আখতারুজ্জামান ছিলেন সমালোচনায় মুখর। জামায়াতের বিরোধিতায় রীতিমতো কট্টর ছিলেন তিনি। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা থাকার কারণে জামায়াতকে অভিহিত করতেন ‘রাজাকার’ ও ‘যুদ্ধাপরাধী’ দল হিসেবে।
১৯৯১ সালে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে যারা এর বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের অন্যতম একজন ছিলেন আখতারুজ্জামান।
জামায়াতে যোগ দেওয়ার দিনও এই রাজনীতিক বলেছেন, ১৯৯১ সালে জামায়াতকে সঙ্গী না করতে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, কেউ শোনেনি।
আখতারুজ্জামানের পক্ষ থেকে সবচেয়ে তীক্ষ্ণ বক্তব্যটি আসে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে। কিশোরগঞ্জে স্থানীয় সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জামায়াতকে ‘রগ কাটার দল’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বিএনপির, বিশেষ করে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘জামায়াতের থেকে সাবধান হোন।’
সতর্কবার্তা সেখানেই থামেনি। যারা জামায়াতের হয়ে ‘ঘাপটি মেরে’ বিএনপির ভেতরে আছেন তাদের সম্পর্কেও হুঁশিয়ার থাকতে বলেন আখতারুজ্জামান। একই সাক্ষাৎকারে তিনি জামায়াতকে অভিযুক্ত করেন, তারা নির্বাচন বয়কট করে সেটি প্রতিহত করার চেষ্টা করছে এবং তার দায় বিএনপির ঘাড়ে চাপাচ্ছে।
নিয়তির নির্মম পরিহাস, কয়েক মাস পর জুলাই অভ্যুত্থানের সূত্র ধরে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আখতারুজ্জামান নিজেই জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আখতারুজ্জামান গোটা বিএনপিসহ জাতিকে জামায়াতের রাজনীতিতে নিয়ে বছরের পর বছর সতর্ক করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই জামায়াতের ‘ফাঁদে’ আটকা পড়েছেন।
উলটো পথে, উলটো সুরে
চব্বিশের নির্বাচনের কয়েক মাস আগে থেকেই অবশ্য আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক যাত্রার গতিমুখ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। ২০২৩ সালের ৮ জুন গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন আখতারুজ্জামান। তার ছেলের উদ্যোগে একটি সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্টের অনুমতি চেয়ে আবেদন জমা দেওয়াই ছিল সাক্ষাতের উপলক্ষ্য।
এরপর থেকে বিভিন্ন টক শোতে শেখ হাসিনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন আখতারুজ্জামান। একটি ঘটনায় তিনি শেখ হাসিনাকে ‘দশভুজা দেবী’র সঙ্গেও তুলনা করেছেন। একই সময়ে বিএনপির নেতৃত্বের কড়া সমালোচনাও তার টক শো-বক্তব্যের নিয়মিত অংশ হয়ে দাঁড়ায়।
২০২২ সালে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর আর দলে ফিরতে পারেননি আখতারুজ্জামান। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে তাই কিশোরগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন তিনি। গণসংযোগে বলেছিলেন, ‘ঘরে ঘুমিয়ে থাকলেও পাস করব, এটাই রাজনৈতিক বাস্তবতা’। ব্যালট বাক্সের বাস্তবতা ছিল অবশ্য ভিন্ন। জামানত বাজেয়াপ্ত হয় তার।
জুলাই অভ্যুত্থানেও জামায়াতের বিরোধিতা
জুলাই অভ্যুত্থানের সময়েও জামায়াত ছিল আখতারুজ্জামানের আক্রমণের অন্যতম কেন্দ্রে। ১৫ জুলাই একটি টক শোতে তিনি বলেন, ‘সমস্ত রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, জামায়াত’ এই আন্দোলনে যুক্ত। আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের সন্তান’ বলেও আখ্যা দেন তিনি।
অথচ কয়েক মাস পরই সেই জামাতের তীরে তরী ভেড়ান আখতারুজ্জামান। প্রশ্ন ওঠে— এতদিন জামায়াতের তীব্র বিরোধিতা করা একজন রাজনীতিক কীভাবে সেই দলেই যোগ দেন? আরও প্রশ্ন ওঠে— যে জামায়াতের বিরুদ্ধে এতদিন তিনি ‘বিষোদ্গার’ করেছেন, সেই জামায়াতই বা তাকে কীভাবে দলে ভেড়াল?
জুলাই অভ্যুত্থানে ৯ দফা ঘোষণা করে আলোচনায় আসা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল কাদের ফেসবুকে প্রশ্ন তোলেন, অভ্যুত্থানের পর আখতারুজ্জামানকে কেন বিচারের আওতায় আনা হয়নি? জামায়াত তাকে ‘শেল্টার’ দিচ্ছে কি না।
ভোটের আগে জামায়াতে
পঞ্চমবার বহিষ্কারের পর প্রায় চার বছর কোনো দলে ছিলেন না আখতারুজ্জামান। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন মাস আগে নভেম্বরে কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। বিএনপিতে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনাও উঠেছিল।
মাসখানেকের মধ্যেই বদলে যায় চিত্র। গত ১৩ ডিসেম্বর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান আখতারুজ্জামান। তার জামায়াতের কার্যালয়ে যাওয়ার ঘটনাটিই ছিল যথেষ্ট বিস্ময় জাগানিয়া। কার্যালয় থেকে বের হয়ে তিনি যে খবর শোনান তাতে যেন বিস্ময়ের ষোলোকলা পূর্ণ হয়। বলেন, আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জামায়াতের ‘প্রাথমিক সহযোগী সদস্য’ ফরম পূরণ করেছেন তিনি!
কেন এতদিনের বিরোধিতা সত্ত্বেও জামায়াতে যোগদান— সে ‘ব্যাখ্যা’ আখতারুজ্জামান সে দিনই দিয়েছেন। তার দাবি, তারেক রহমান বলেছেন জামায়াত মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ হত্যা করেছে, যা সঠিক নয়। তিনি বলেন, তারা পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন, জামায়াতের সঙ্গে নয়। তাহলে এখন এ নিয়ে ‘ঝগড়াঝাঁটি’ কেন!
জামায়াত ‘দেশপ্রেমিক’ দল, মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করে, তাদের গঠনতন্ত্রেও তা আছে— এমন বক্তব্য দিয়ে সেদিন সবাইকে চমকে দেন আখতারুজ্জামান। আরও বলেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের রোষানলে জামায়াতই সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সঙ্গে যোগ করেন, ৫ আগস্টের পর ঐক্যের বদলে বিভক্তির রাজনীতি শুরু করেছে বিএনপি। ক্রমেই তিনি বলতে শুরু করেন, জামায়াতের কার্যক্রম ও বক্তব্যে এখন ‘অনেক পরিবর্তন’ এসেছে।
যে দলকে একসময় ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘রগ কাটার দল’ বলে সতর্ক করেছিলেন খোদ নিজে, এখন উলটো সেই দলের হয়ে তিনি বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন প্রতিনিয়ত। যে দলকে বিএনপির ‘ঘরে ঢুকে থাকা বিপদ’ বলেছিলেন, বিএনপিকে এখন সেই দলেও ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করে চলেছেন তিনি। অভ্যুত্থানের সময় যাদের ‘রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী’ বলেছিলেন, তাদেরই এখন দেশপ্রেমিক ঘোষণা করছেন তিনি।
এই পরিবর্তনের ‘ব্যাখ্যা’ একাধিকবার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু আগের বক্তব্যগুলোর সঙ্গে তার মীমাংসা কখনও করেননি আখতারুজ্জামান। ২০২৪ সালে জামায়াত সম্পর্কে করা সতর্কবার্তা তিনি প্রত্যাহার করেছেন কি না, কিংবা কেন প্রত্যাহার করেছেন— এসব নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি তিনি।
‘আশ্রয়’ ও ‘জবান’
২০ ডিসেম্বর কটিয়াদীর গচিহাটা কলেজ মাঠে ‘কৈফিয়ত সভা’য় আখতারুজ্জামান আরও খোলাখুলি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। বলেন, ‘যে কথায় জামায়াতে ইসলামী কষ্ট পায়, সেই কথা বলব না।’ যোগ করেন, ‘প্রয়োজনে আমার জবান কেটে দেবো। কারণ জামায়াত আশ্রয় দিয়েছে।’
‘আশ্রয়’ শব্দের অর্থও আখতারুজ্জামান নিজেই খোলাসা করেছেন। বলেছেন, ‘এ বয়সে নতুন করে ঘর বা দল গড়ার সামর্থ্য নেই, আমার ঘরে চাল নেই, চুলা নেই।’ জামায়াত রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে একই সভায় তিনি বলেন, তিনি ছাড়েননি, বিএনপি তাকে বের করে দিয়েছে।
নতুন দলের পক্ষ নেওয়ার ধরনটিও লক্ষ করার মতো। এ বছরের মাঝামাঝি একটি টক শোতে একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে তর্কের সময় তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত জামায়াত পাকিস্তানের পক্ষে ছিল, কিন্তু ‘গণহত্যা করে নাই’, আর এ কথা তিনি ‘শত বার, হাজার বার’ বলবেন। অথচ এর আগে শতবার জামায়াতের জন্য ‘যুদ্ধাপরাধী’ শব্দটিই ছিল তার সার্বক্ষণিক বরাদ্দ।
এখন কোথায়?
গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে লাগেজ-ট্রলি সংকট নিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভের মধ্যে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলার এজাহারে সরকারি কাজে বাধা, আঘাত, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর রিমান্ড শেষে এখন কারাগারে বন্দি তিনি।
জামায়াত বলছে, এটি মিথ্যা মামলা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার করে হয়রানি করা হচ্ছে। দলটির আমির শফিকুর রহমান তাকে ‘শুধু জামায়াতের নেতা নন’, ভুক্তভোগী মানুষের নেতা বলে অভিহিত করেছেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দলের পক্ষ থেকেও একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানেও আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাকে সরকারের নির্যাতন-নিপীড়ন নীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ভিন্ন চিত্রও রয়েছে জামায়াতের মধ্যে। দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম যেমন স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আখতারুজ্জামান জামায়াতের নেতা নন, তিনি প্রাথমিক বা সহযোগী সদস্য মাত্র।
এ টি এম আজহারের বক্তব্য প্রমাণ করে, এক বছরেরও কম সময়ে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও ঘোষিত ‘রগ কাটার দলের’ সমালোচক জামায়াতের মঞ্চে এসে দাঁড়ালেও দলের কাঠামোর ভেতরে তার মর্যাদা এখনা সবচেয়ে নিচের ধাপে। এই বৈপরীত্যও কম অর্থবহ নয়— দলের শীর্ষ নেতৃত্ব রাজনৈতিক প্রয়োজনে তার পাশে দাঁড়াচ্ছে, কিন্তু ‘নেতা’ পরিচয় দিতে রাজি হচ্ছে না।
‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই’
আখতারুজ্জামানের যাত্রা কোনো আদর্শিক বিবর্তনের গল্প হিসেবে পড়া কঠিন। তার নিজের ভাষ্য, জামায়াত বদলেছে। জামায়াতের ভাষ্য, তিনি একজন সহযোগী সদস্য। সমালোচকদের ভাষ্য, অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করা একজন ব্যক্তি অভ্যুত্থানের পক্ষে সরব দলে আশ্রয় পেয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আখতারুজ্জামানের পরিচয় বদলের এই ঘটনাক্রম বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেই কথাটিকেই নতুন করে সামনে এনেছে— ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই’।


-adbf69.jpg)














-5a0fee-256x144.webp)



