‘জামায়াত-এনসিপির ৯০ এমপির যোগ্যতা এক সালাউদ্দিন আহমেদের সমান নয়’

মেধা ও যোগ্যতার দিক থেকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সব সংসদ সদস্যকে এক করলেও তা বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমান হবে না বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অনেক এনসিপি নেতাই আসন সমঝোতার জন্য সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়ে বসে থাকতেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। এনসিপির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এমন কথা লিখেছেন তিনি।
রাশেদ খাঁন লিখেছেন, (সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে) পদত্যাগ করার ঠিক আগের রাতে আসিফ মাহমুদ (এনসিপি বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে বসেছিল বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য। মাহফুজ আলমও (আরেক সাবেক উপদেষ্টা) ধানের শীষে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিল।
রাশেদের দাবি, এ কারণে দুজন একসঙ্গে বিএনপিতে যোগদান ও নির্বাচনের কনফার্মেশন পাওয়ার জন্য বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব (বর্তমানে রাষ্ট্রপতি) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের বাসায় পর্যায়ক্রমে গিয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো উপদেষ্টা বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করুক, এটা বিএনপি চায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
রাশেদ লিখেছেন, ‘বিএনপি আসিফ মাহমুদের প্রতি আগ্রহ না দেখানোর পর সে বাধ্য হয়ে এনসিপিতে যোগদান করেছে। মাহফুজ আলম অবশ্য বিএনপিতে সুযোগ না পেয়ে নৈতিকতা ধরে রেখেছে। তার এই সততাকে সাধুবাদ জানাই।’
গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকার কারণে এনসিপিতে আসিফ মাহমুদের অবস্থান নাহিদ ইসলামের পরই থাকার কথা বলে মনে করেন রাশেদ। তার মূল্যায়ন, আগের বিতর্ক ও এনসিপিতে যোগদান করার বিষয়ে দোদুল্যমান অবস্থানের কারণে আসিফকে বর্তমানে এনসিপির ‘সুপার সিক্সের সর্বশেষ নেতা’ হিসেবে থাকতে হয়েছে।
রাশেদ লিখেছেন, ‘অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে আসিফ মাহমুদ এনসিপিতে ব্যাপক কোনঠাসা!’ এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক ও পুনর্গঠিত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘অন্যথায় একজন ছাগলচোর, ল্যাপটপ চোরও তার কয়েকধাপ ওপরের নেতা হয় কী করে!’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বেশি আসনে সমঝোতার জন্য এনসিপির শীর্ষ এক ডজন নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের বাসায় গিয়ে বসে থাকতেন বলেও ফেসবুক পোস্টে দাবি রাশেদের। লিখেছেন, ‘বিএনপি এনসিপিকে চারটির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি। আর এ কারণেই বেশি আসন ও নির্বাচনি খরচ পেয়ে জামায়াত জোটে গেছে এনসিপি।’
বিএনপির সঙ্গে না এসে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনি জোট গঠনকে সুবিধাবাদী রাজনীতি আখ্যা দিয়ে রাশেদ লিখেছেন, ‘এনসিপির নতুন রাজনীতি হলো সুবিধাবাদী জিন্দাবাদের রাজনীতি। এখন হয়তো আলাদা কোনো সুবিধা পেতে কিংবা জামায়াতের পরামর্শে বিএনপিকে চাপের রাখার কৌশল হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পেইন শুরু করেছে এনসিপি।
কিন্তু তাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ ব্যর্থ কর্মসূচি।’
রাশেদ আরও লিখেছেন, ‘বিএনপি সরকারের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেও তার কিছু করার সক্ষমতা রাখে না এনসিপি। কারণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো সুযোগে নেতা বনে যাননি। দীর্ঘ সংগ্রাম, মেধা ও যোগ্যতার কারণেই তার আজকের এই পজিশন।’
সালাহউদ্দিন আহমদের যোগ্যতা ও মেধার ভূয়সী প্রশংসা করে রাশেদ লিখেছেন, ‘জামায়াত-এনসিপির ৯০ জন এমপির মেধা ও যোগ্যতা এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের সমান নয়। আর এটা তো কারও না বোঝার কথা না যে তাদের যন্ত্রণাটা ঠিক এখানেই!’
রাশেদ তার পোস্টের শেষ অংশে লিখেছেন, ‘তারা মনে করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করে বিএনপিকে চাপে রাখতে পারলে বিরিয়ানির ভাগ আদায় করা যাবে! কিন্তু বিএনপি বিরিয়ানি ভাগবাটোয়ারার রাজনীতি করে না। বিএনপি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রাজনীতি করে। সুতরাং বিএনপির কাছ থেকে জামায়াত-এনসিপি বিরিয়ানির ভাগ চাইলেও পাওয়ার সম্ভাবনা নাই।’














