এই সংসদের ২ আনাও মূল্য নেই, টিকবে কি না সন্দেহ: নাহিদ

১৬ বছর পর গঠিত বর্তমান সংসদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, সংসদে বিরোধী দলের বক্তব্যের মূল্যায়ন না হওয়ায় এই সংসদ পাঁচ বছর টিকবে কি না, তা নিয়েই সন্দেহ রয়েছে।
শনিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ১৬ বছর পর গঠিত এই সংসদের মূল্য এখন দুই আনাও নেই।
গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সরকার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। বিএনপি গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিলেও দলটির রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রদলের অনেক নেতা আহত ও নিহত হয়েছেন। তবে তার অভিযোগ, বিএনপির রাজনৈতিক নেতারা বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপস করে চলেছেন। গত সাত-আট মাসেও তাঁদের মধ্যে পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
২০২৬ সালের নির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দুটি ভোট দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকার জুলাই সনদকে অবজ্ঞা করেছে এবং গণভোটের ফল অস্বীকার করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ কারণে বিএনপি সরকারকে ‘জুলাই গাদ্দার সরকার’ আখ্যা দিয়ে নাহিদ বলেন, সরকার জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ধুলায় মিশিয়ে দেশকে পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরিয়ে নিয়েছে। তাঁর ভাষ্য, গণভোট অস্বীকার করার মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানে শহীদদেরও অবমাননা করা হয়েছে।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য নেই
সংস্কার, বৈষম্য দূর করা ও চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে মানুষ শেখ হাসিনার শাসনামল নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করবে বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক।
তিনি বলেন, তারেক রহমান ও শেখ হাসিনার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তার অভিযোগ, তারেক রহমানও শেখ হাসিনার মতো অবৈধভাবে ক্ষমতায় রয়েছেন। জনগণের গণভোটের অধিকার হরণ করে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করা হয়েছে এবং দেশকে মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে এর উদাহরণ দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মাদক ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, মাদকের বড় সিন্ডিকেট ও হটস্পটগুলো বিএনপি নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে বিএনপির কোনো প্রতিমন্ত্রী বন্দুক নিয়ে বের হলেও সরকারের পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পরিবহন খাতে নিয়মিত চাঁদাবাজি হয় উল্লেখ করে নাহিদ প্রশ্ন তোলেন, এই চাঁদার অর্থ কোথায় যায়। তার অভিযোগ, চাঁদার একটি অংশ এখনো আওয়ামী লীগ পায়, আরেকটি অংশ পায় বিএনপি। দুই দল ভাগাভাগি করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করছে এবং মানুষের পকেটের টাকা নিয়ে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জ্বালানি খাতের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে জ্বালানিমন্ত্রীরও পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।













-5fb517.jpg)