ইরান যুদ্ধ আমি শুরু করিনি— দাবি ট্রাম্পের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার দায় অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ইরান ১৯৭৯ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংঘাত চালিয়ে আসছে। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যেসব প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদেরই এ ‘সমস্যা’ সমাধান করার কথা ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এমন দাবি করলেও ইরানের সঙ্গে যে যুদ্ধ চলছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরই তা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ সংঘাতে জড়ানোর সিদ্ধান্তও এসেছে ট্রাম্পের কাছ থেকেই।

বুধবার ওহাইও অঙ্গরাজ্যের চিলিকোথিতে রিপাবলিকানদের নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি।’ তিনি দাবি করেন, ইরান বহু বছর ধরে মার্কিন নাগরিক ও সেনাদের হত্যা করেছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানের কর্মকাণ্ড ও ইরানের প্রয়াত জেনারেল কাসেম সোলাইমানির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন ট্রাম্প। বলেন, আগের প্রেসিডেন্টদেরই অনেক আগে এ সমস্যার সমাধান করা উচিত ছিল।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানে হামলা চালায়, তখন ওমানের মধ্যস্থতায় চলছিল তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা। এর আগে ২০২৫ সালেও আলোচনার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

চিলিকোথির সমাবেশে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা কমেছে এবং ড্রোন উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। তার ভাষ্য, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া যাবে না।

এদিকে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবার হামলার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বার্তা সংস্থা এপি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে সম্ভাব্য নতুন হামলা এবং এর জবাবে ইরানের পালটা আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হামলার লক্ষ্য হতে পারে বলে মিত্র দেশগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প এখনো নতুন হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

এর আগে ৮ অক্টোবর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হবে না। তার যুক্তি ছিল, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি তেলের দাম ও যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও কথা বলেছেন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন ভোটারদের উদ্বেগ বাড়ছে, যা রিপাবলিকানদের নির্বাচনী অবস্থানেও প্রভাব ফেলতে পারে।

নতুন হামলা হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইরান পালটা হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপথ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলে ট্রাম্পের যুদ্ধবিষয়ক বক্তব্য শুধু সামরিক অবস্থানের ব্যাখ্যা নয়; নির্বাচনের আগে যুদ্ধের দায়, অর্থনৈতিক চাপ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তার রাজনৈতিক অবস্থানও তুলে ধরছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad