নির্বাচনের আগে ডিজেলের দাম কমাতে মরিয়া ট্রাম্প, বিতর্কের সঙ্গে বাড়ছে ব্যয়ও

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডিজেলের দাম কমাতে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৃষকদের জন্য হাজার কোটি ডলারের সহায়তা, ট্রাকচালকদের জন্য নিয়ম শিথিল, রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কমানো এবং ইউরোপের মিত্রদের জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়তে চাপ দেওয়ার মতো উদ্যোগ নিয়েছে তার প্রশাসন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপে নতুন করে বিতর্ক বাড়ছে। একই সঙ্গে ব্যয় বাড়লেও কমছে না ডিজেলের দাম। গত সপ্তাহেও যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম আবার বেড়েছে। এতে নির্বাচনের আগে ভোটারদের স্বস্তি দিতে গিয়ে রাজনৈতিক ও আর্থিক— দুই দিক থেকেই চাপে পড়েছেন ট্রাম্প।
ফলে কংগ্রেসে অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকা রিপাবলিকানদের জন্য জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। রয়টার্স/ইপসোসের অক্টোবরে করা এক জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ব্যয় বৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম প্রায় ১০ সেন্ট বেড়ে ৬ দশমিক ২৮ ডলারে উঠেছে। এর মধ্য দিয়ে টানা দুই সপ্তাহের দরপতন থেমেছে। দাম এখনো রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি।
গত দুই মাসে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকেই উচ্চ থাকা মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়াচ্ছে এই জ্বালানি। কৃষি, নির্মাণ ও পণ্য পরিবহনের মতো খাতে ডিজেলের ব্যবহার ব্যাপক। গত সপ্তাহে প্রকাশিত সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, ডিজেলের দাম বাড়ায় পণ্য সরবরাহের খরচ, খাদ্য উৎপাদনের প্রাথমিক পর্যায়ের ব্যয় এবং এমনকি খেলনার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
রয়টার্স লিখেছে, আইওয়া ও কানসাসের মতো রিপাবলিকান-সমর্থিত কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্যগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। জ্বালানি ও সারের উচ্চমূল্য, বাণিজ্যে বিঘ্ন এবং কৃষিকাজে দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ট্রাম্পের সমর্থকদের একটি অংশকে হতাশ করেছে।
এ অবস্থায় নির্বাচনি সমাবেশগুলোতে ডিজেলের দাম কমানোর উদ্যোগ তুলে ধরছেন ট্রাম্প। নেব্রাস্কায় এক সমাবেশে তিনি নির্বাহী আদেশে সই করে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনে লাল রং মেশানো ডিজেল ব্যবহারের সুযোগ দেন। সাধারণত কৃষি সরঞ্জামের মতো মহাসড়কের বাইরে চলাচলকারী যানবাহনে এ ধরনের ডিজেল ব্যবহার করা হয়। সোমবার কানসাসে আরেক সমাবেশে কৃষকদের জন্য নতুন করে ৮০০ কোটি ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেন তিনি।
তবে এসব পদক্ষেপের আর্থিক ও কূটনৈতিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কৃষকদের নতুন সহায়তা কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয়ের চাপ বাড়াবে। অন্যদিকে, রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মস্কোর অর্থায়নের সুযোগ বাড়তে পারে। ইউরোপের দেশগুলোকে জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়তে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি সীমিত করার হুমকি কূটনৈতিক টানাপোড়েনও তৈরি করেছে।
পেনসিলভানিয়ার মুহলেনবার্গ কলেজের জনমত জরিপ বিশেষজ্ঞ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ক্রিস বোরিক বলেন, “প্রেসিডেন্ট স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকে কম গুরুত্ব দেন। তবে এখানে স্বল্পমেয়াদেও কোনো লাভ হবে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।”
হোয়াইট হাউজ অবশ্য ডিজেলের উচ্চমূল্যের জন্য আগে থেকে চলে আসা বিভিন্ন সমস্যাকে দায়ী করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে শোধনাগার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি। একই সঙ্গে জ্বালানির ব্যয় কমাতে ট্রাম্পের নেওয়া পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে প্রেসিডেন্টের দপ্তর।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেন, “প্রেসিডেন্ট ডিজেলের দাম কমাতে চান। সে কারণেই তিনি মার্কিন কৃষক, ট্রাকচালক ও শ্রমিকদের কষ্টার্জিত প্রতিটি পয়সা বাঁচাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছেন।”
ট্রাকচালকদের জন্য ছাড় নিয়ে সংশয়
ডিজেলের দাম কমানোর লক্ষ্যে ট্রাকচালকদের জন্য নেওয়া পদক্ষেপটির কার্যকারিতা নিয়েও সংশয় রয়েছে। চলতি মাসে ট্রাম্পের সই করা নির্বাহী আদেশে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনে লাল রং মেশানো ডিজেল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় করসংক্রান্ত কিছু প্রতিবেদন দাখিল ও নথি সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস) ডিজেলের ওপর কেন্দ্রীয় কর বাতিল করেনি। বছরের শেষ পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত কিছু প্রতিবেদন দাখিলের নিয়ম ও জরিমানা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে ট্রাকচালকদের যাত্রাবিরতির কেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি বিক্রেতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বড় ট্রাক স্টপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্য সংগঠন ন্যাটসোর শীর্ষ লবিস্ট ডেভিড ফিয়ালকভ বলেন, ডিজেলের ব্যয় কমানোর উদ্যোগকে সংগঠনের সদস্যরা স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে দেওয়া নির্দেশনা এখনো অস্পষ্ট এবং তা অনুসরণ করতে গিয়ে ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফিয়ালকভ বলেন, “লাল রং মেশানো ডিজেল নিয়ে এসব ঘোষণায় ডিজেলের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়বে বলে আমার মনে হয় না।”
কৃষকদের জন্য সহায়তায় নতুন রেকর্ড
জ্বালানি ও অন্যান্য ব্যয়ের চাপে থাকা কৃষকদের সহায়তায় সরকারি অর্থের পরিমাণও বাড়াচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। পণ্যভিত্তিক সহায়তা এবং চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের দেওয়া ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের শুল্ক-সহায়তাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে এ বছর কৃষকদের জন্য সরকারি অর্থসহায়তা ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
নতুন ৮০০ কোটি ডলারের কৃষি সহায়তা যুক্ত হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫ হাজার ৫৪০ কোটি ডলারে। এর ফলে কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা নতুন রেকর্ড গড়বে। এর আগে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়া হয়েছিল ২০২০ সালে, যখন কৃষকেরা করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় অর্থ পেয়েছিলেন।
সরকারি সহায়তা কৃষকদের বাড়তি ব্যয় ও বিক্রি কমে যাওয়ার ক্ষতি সামাল দিতে সাহায্য করতে পারে। তবে জ্বালানি ও সারের দাম বাড়িয়ে দেওয়া বাজারগত সমস্যাগুলো সরাসরি সমাধান করতে পারে না এই অর্থ। বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদকদের ক্ষতিপূরণ দিতে করদাতাদের অর্থ ব্যয় করা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কৃষি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, এসব ক্ষতির পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতিরও ভূমিকা রয়েছে।
ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়নের সভাপতি রব লারিউ বলেন, “এ বছর এমন ক্ষতি মোকাবিলায় দ্বিতীয়বারের মতো জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যেগুলো অনেকাংশেই আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “বিদেশের সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত বাণিজ্যিক বিঘ্ন ও জ্বালানির বাড়তি দাম পারিবারিক কৃষকদের কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে। এককালীন অর্থসহায়তা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা দিতে পারে না।”
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা রিচার্ড ফোর্ডাইস শুক্রবার রয়টার্সকে বলেন, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর এই সহায়তা দেওয়া হবে। কৃষকেরা সম্ভবত বছরের শেষ নাগাদ অর্থ পাবেন।
রাশিয়ার জ্বালানি নিয়ে বিতর্ক
ডিজেলের সরবরাহ বাড়াতে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তও বিতর্ক তৈরি করেছে। এসব নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য ছিল মস্কোর জ্বালানি আয় সীমিত করা এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থায়নের সক্ষমতা কমানো। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সদস্যরা। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, এতে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম আদৌ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে কি না।
ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা প্রয়োজন ছিল, যাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় আনা যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বন্দি স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্ত করা যায়।
রয়টার্স লিখেছে, জ্বালানির দাম কমাতে ট্রাম্পের নেওয়া পদক্ষেপগুলো প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। এ অবস্থায় নির্বাচনের আগে তিনি এখন ইরান যুদ্ধের বদলে ইউক্রেন ও দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দিকে দায় ঠেলার চেষ্টা করছেন।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, ডিজেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পেছনে ইরান সংঘাতের প্রভাব অনেক বেশি। এই সংঘাত বিশ্ব জুড়ে তেলের প্রবাহ ও পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত করেছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলার কারণে সরবরাহ আরও সংকুচিত হয়েছে, তবে দামের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম।
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের মরিস আর গ্রিনবার্গ সেন্টারের পরিচালক এডওয়ার্ড ফিশম্যান বলেন, “নির্বাচনের আগে দাম কমানোর প্রকৃত চেষ্টা করার চেয়ে বিষয়টিকে দায় অন্যের ওপর চাপানোর প্রচেষ্টা বলেই আমার বেশি মনে হচ্ছে।”
সমঝোতার পর যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে রুশ ডিজেল
রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে হওয়া আকস্মিক সমঝোতার পর দেশটি থেকে প্রথম ডিজেলবাহী ট্যাংকার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণের তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটি নিউইয়র্কের দিকে যাচ্ছে।
গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে ৩ লাখ মেট্রিক টন বা ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং তার পরপরই ১০ লাখ টন রপ্তানি করা হবে বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডিজেলের দাম কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সমঝোতা হয়।
রাশিয়ার ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আইনের কিছু অংশ কার্যকর করা থেকে ছাড় দিয়েছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি জরুরি মজুত থেকে আরও জ্বালানি ছাড়তে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ দিয়েছেন তিনি। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকিও দিয়েছেন।
এলএসইজি শিপিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাল্টার পতাকাবাহী মাঝারি আকারের ট্যাংকার ‘আগিওই ফানেনদেস’ গত ২২ অক্টোবর রাশিয়ার বাল্টিক সাগর তীরবর্তী প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন অতি-নিম্ন সালফারযুক্ত ডিজেল বোঝাই করে। আগামী ৭ নভেম্বর জাহাজটির যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এই চালানের ক্রেতা ও বিক্রেতার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ২০২২ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার ডিজেলের প্রথম চালান।
শুক্রবার ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র সমঝোতার আওতায় প্রথম জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “আমার জানা অনুযায়ী, জ্বালানি মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে জানিয়েছে, প্রথম ট্যাংকারটি ক্রেতাদের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। এখন থেকে নিয়মিত বিরতিতে আরও চালান পাঠানো হবে।”
এই সমঝোতার অংশ হিসেবে রাশিয়া ডিজেল রপ্তানির ওপর নিজেদের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে। তবে এতে দেশটির বাজারে ডিজেলের দাম কতটা কমবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নানা পদক্ষেপ নিয়েও ডিজেলের দাম কমাতে পারেননি ট্রাম্প। উলটো সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা নিয়ে বিতর্ক এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য— সব মিলিয়ে রাজনৈতিক ও আর্থিক চাপের মুখে রয়েছেন তিনি।



















