মার্কিন কর্মীদের একাংশকে সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় মার্কিন সরকারি কর্মীদের একাংশ ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলা ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত ২৩ অক্টোবর সৌদি আরবে জরুরি নয়— এমন দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। এর আগে ২১ অক্টোবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি আরবে নিযুক্ত কিছু কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভ্রমণসংক্রান্ত সতর্কবার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সৌদি আরবে বেসামরিক বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় হতাহতের পাশাপাশি বিমান চলাচল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
২১ অক্টোবর সৌদি আরবের দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত একজন নিহত ও আটজন আহত হন। একই দিনে সৌদি আরামকোর শাইবাহ তেলক্ষেত্রের একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হলে সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী তা প্রতিহত করে। এ ঘটনায় দুজন নিহত হওয়ার কথা জানায় দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এসব ঘটনার পর সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাস সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সৌদি আরবে জরুরি দায়িত্বে থাকা কর্মীরা আপাতত দেশটিতে থাকবেন। তবে তাদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিমানবন্দর ব্যবহারসহ কয়েকটি এলাকায় ভ্রমণের জন্য বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে। ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এলাকায় যাতায়াতেও কড়াকড়ি রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বিস্তৃত প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর ইরানও অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনায় পালটা হামলা চালায়। এর জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক ও সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ওয়াশিংটন অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোতেও মার্কিন কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। তবে সৌদি আরবের বাইরে সব মিশনে কর্মীদের দেশ ছাড়ার একই ধরনের নির্দেশ জারি হয়েছে— এমনটি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেনি।
















