মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, ঠিক করবে যেসব গুরুত্বপূর্ণ লড়াই

ঠিক এক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ৩ নভেম্বরের এ নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের ৩৫টি আসন নতুন করে নির্ধারিত হবে। ডেমোক্র্যাট নাকি রিপাবলিকান— আগামী বছর এই সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে এই ৩৫টি আসনের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের ফলাফল।
বর্তমানে ৫৩টি আসন নিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে রিপাবলিকানদের হাতে। ডেমোক্র্যাট ও দুই স্বতন্ত্র সিনেটর মিলে বিরোধী দলের আসনসংখ্যা ৪৭। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নিতে ডেমোক্র্যাটদের এবারের নির্বাচনে অন্তত চারটি আসন বাড়াতে হবে।
অন্যদিকে রিপাবলিকানরা সর্বোচ্চ তিনটি আসন হারিয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে। কারণ সমতা হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভোটে ফল নির্ধারিত হবে রিপাবলিকানদের পক্ষে।
বছরের শুরুর দিকে যেসব আসনের লড়াই নিয়ে ব্যাপক নজর ছিল, নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে এসেছে তার কয়েকটি এখন আলোচনার কেন্দ্র থেকে সরে গেছে। জর্জিয়ায় বর্তমান সিনেটর জন অসফকে হারানোর চেষ্টা থেকে রিপাবলিকানরা কার্যত সরে এসেছে।
নর্থ ক্যারোলাইনাতেও তারা প্রচারে অর্থ ঢালা বন্ধ করেছে। সেখানে সাবেক ডেমোক্র্যাট গভর্নর রয় কুপার এখন সাবেক রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি চেয়ারম্যান মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়ে অবসর নিতে যাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসের আসনটি দখলের পথে রয়েছেন বলে মনে হচ্ছে।
দুই দলই প্রচারের শেষ ধাপে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে যেসব সিনেট লড়াইয়ে, সেগুলোর কয়েকটিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সবশেষ অবস্থা তুলে ধরা হলো এ প্রতিবেদনে।

মিশিগান: প্রগতিশীল নতুন প্রার্থীর বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই
ডেমোক্র্যাটরা কিছুটা এগিয়ে
রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স সিনেটের লড়াইয়ে নতুন নন। সাবেক কংগ্রেসম্যান রজার্স ২০২৪ সালের সিনেট নির্বাচনে বর্তমান সিনেটর এলিসা স্লটকিনের কাছে ২০ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন।
এবার তিনি লড়ছেন প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে। সাবেক স্বাস্থ্যসেবা নির্বাহী এল-সায়েদ ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক নির্বাচনে একজন মধ্যপন্থি প্রার্থীকে হারিয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন।
রিপাবলিকানরা এল-সায়েদকে ‘উগ্রপন্থি’ হিসেবে তুলে ধরতে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে। এর পেছনে তার ‘সবার জন্য মেডিকেয়ার’ নীতি সমর্থন এবং অভিবাসন বিষয়ে তার অবস্থানকে সামনে আনা হয়েছে। তার ধর্ম ও জাতিগত পরিচয় নিয়েও আক্রমণ করা হয়েছে। রজার্স তাকে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত বলেও অভিযোগ তুলেছেন।
এমনকি খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও এক ধাপ এগিয়ে তাকে ‘হিংস্র, সহিংস জিহাদি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্প ভোটারদের প্রতি তাকে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছেন এ বলে যেন ‘আমাদের ধর্ম, মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য’ রক্ষা করা যায়।
মিশিগানের রচেস্টার হিলসে মিসরীয় অভিবাসী মা-বাবার ঘরে জন্ম নেওয়া এল-সায়েদ সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে তার যেকোনো ধরনের সংযোগের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি এসব আক্রমণকে ইসলামবিদ্বেষী বলে অভিহিত করেছেন।
গত সপ্তাহে এবিসি নিউজ লাইভের অ্যাঙ্কর লিনসি ডেভিসকে এল-সায়েদ বলেন, ‘তারা মনে করছে আমার নাম ও ধর্মের দিকে ইঙ্গিত করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে, যেন তারা এই সত্য থেকে নজর সরিয়ে নিতে পারে যে আমরা গ্যাসের দাম দিতে পারছি না, বাজারের খরচও চালাতে পারছি না।’
অন্য এক সাক্ষাৎকারে ডেভিসকে রজার্স বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়া ইহুদি ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে তিনি সমর্থন বাড়াতে পারছেন বলে মনে করছেন। এসব ভোটার এল-সায়েদকে নিয়ে উদ্বিগ্ন বলেও দাবি করেন তিনি।
মিশিগান গত তিনটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুটিতে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছে। তবে ১৯৯৪ সালের পর থেকে রাজ্যটিতে প্রতিটি সিনেট নির্বাচনেই ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হয়েছে।

টেক্সাস: প্রাইমারিতে অপ্রত্যাশিত জয় ডেমোক্র্যাটদের প্রতিযোগিতায় ফিরিয়েছে
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
৩৩ বছর ধরে টেক্সাসের কোনো সিনেটর ডেমোক্র্যাট হননি। তবে ডেমোক্র্যাটরা মনে করছেন, এবার সেই দীর্ঘ খরা শেষ হতে পারে।
টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন রিপাবলিকান দলের ব্যয়বহুল প্রাইমারি রানঅফে দীর্ঘদিনের বর্তমান সিনেটর জন কর্নিনকে হারিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শেষ মুহূর্তের সমর্থন প্যাক্সটনের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কট্টরপন্থি ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত প্যাক্সটনকে অনেক রিপাবলিকানই সাধারণ নির্বাচনে কর্নিনের তুলনায় দুর্বল প্রার্থী হিসেবে দেখছেন।
জনসমক্ষে থাকার সময়ে প্যাক্সটন একাধিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন। ২০২৩ সালে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে অভিশংসন করা হয়েছিল। তবে অঙ্গরাজ্যের সিনেট তাকে অভিযোগ থেকে খালাস দেয়।
২০১৫ সালে তার বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ জালিয়াতির অভিযোগে মামলা হয়। বিচারের কয়েক সপ্তাহ আগে ২০২৫ সালে তিনি প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি প্রি-ট্রায়াল সমঝোতায় পৌঁছান। এর আওতায় কমিউনিটি সার্ভিস, আইনি নৈতিকতা বিষয়ক কোর্স এবং প্রায় ৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার শর্তে তাকে দোষ স্বীকার না করেই মামলা নিষ্পত্তির সুযোগ দেওয়া হয়।
বিচারের কয়েক সপ্তাহ আগে প্যাক্সটন বলেন, ‘এই মামলায় কখনোই কোনো দণ্ড হবে না এবং আমি দোষী নই।’
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো সাবেক অঙ্গরাজ্য প্রতিনিধি এবং প্রেসবাইটেরিয়ান ধর্মতত্ত্বের সাবেক সেমিনারিয়ান। রিপাবলিকানরা ৩৭ বছর বয়সী এই প্রগতিশীল প্রার্থীকে ‘চরম বামপন্থি’ ও ‘উগ্র’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
ডেমোক্র্যাটদের আশা, প্যাক্সটনের কম জনপ্রিয়তা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের বাড়তে থাকা উদ্বেগ— এই দুই বিষয় একসঙ্গে কাজ করলে তিন দশকেরও বেশি সময় পর টেক্সাস থেকে একজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হতে পারেন।
রিপাবলিকানরাও কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। তারা এই আসনের জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে। এমনকি দলের প্রথম মিডটার্ম কনভেনশনও ডালাসে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই লড়াইটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেট নির্বাচন। প্যাক্সটনকে জেতাতে বাইরের বিভিন্ন সংগঠন ২৫ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ দিয়েছে। অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসে বিজ্ঞাপন প্রচারেই ৫০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে।

আলাস্কা: ৪ প্রার্থী, দুজনের নাম ড্যান সুলিভান
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের বিরুদ্ধে লড়ছেন সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি মেরি পেলটোলা। আর এই অপ্রত্যাশিতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে একই নামের আরও একজন প্রার্থীও রয়েছেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী ড্যান সুলিভান।
আলাস্কার র্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং ব্যবস্থায় প্রাইমারিতে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া চার প্রার্থী সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। একমাত্র ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে পেলটোলা সেই চারজনের একজন হওয়ায় তিনি কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
পেলটোলার পাশাপাশি সিনেটর সুলিভানের বিরুদ্ধে লড়ছেন একই নামের আরেকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ড্যান সুলিভান এবং রিপাবলিকান প্রার্থী জেরাল্ড হেইকস। চতুর্থ স্থানে থাকা প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর পর হেইকস চূড়ান্ত চার প্রার্থীর মধ্যে জায়গা করে নেন।
ট্রাম্পসহ রিপাবলিকানরা ভোটারদের বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ব্যালটে যেন তারা ‘আসল’ ড্যান সুলিভানের নামের পাশেই ভোট দেন।
২৩ অক্টোবর ট্রাম্প বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন, বর্তমান সিনেটর সুলিভান অল্প ব্যবধানে হেরে গেলে নির্বাচনের ফল প্রত্যয়ন ঠেকাতে আগাম মামলা করার প্রস্তুতি নিতে।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প আলাস্কায় ১৩ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন।

ওহাইও: একজন নিয়োগ পাওয়া সিনেটর বনাম সাবেক সিনেটর
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
ওহাইওর সিনেট নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছেন দুই প্রার্থী, যাদের দুজনেরই লক্ষ্য আবার সিনেটে ফেরার সুযোগ পাওয়া। বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের বিপরীতে আছেন সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন। ২০২৪ সালের পুনর্নির্বাচনে বার্নি মোরেনোর কাছে হেরে গিয়েছিলেন ব্রাউন।
২০২৫ সালে রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনের নিয়োগে সিনেটে আসেন হাস্টেড। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ছেড়ে যাওয়া আসনটি পূরণ করতেই তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এবারের নির্বাচন ঠিক করবে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ভ্যান্সের বাকি মেয়াদ কে পূরণ করবেন।
এটাই হাস্টেডের প্রথম রাজ্যব্যাপী নির্বাচনি লড়াই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওহাইও ক্রমেই রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকলেও জীবনযাত্রার ব্যয় এবং রাজ্যে ডেটা সেন্টারের বিস্তার নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যে হাস্টেড কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন।
২০২৪ সালে নবাগত প্রার্থী মোরেনোর কাছে প্রায় ৪ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে হেরেছিলেন ব্রাউন। তবে রাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের তুলনায় তিনি ভালো ফল করেছিলেন। তিন মেয়াদের এই সাবেক সিনেটর এবার জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন শ্রমজীবী ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

কানসাস: সিনেট আসনে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের দখল চ্যালেঞ্জের মুখে
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
কানসাসের সিনেট নির্বাচনকে শুরুতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনে করা হয়নি। ২০২৪ সালে ট্রাম্প রাজ্যটিতে ১৬ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন। প্রায় এক শতাব্দী ধরে কানসাসের দুই সিনেট আসনই রিপাবলিকানদের দখলে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল নিজেই স্বীকার করেছেন, এবারের ব্যবধানটা খুবই সামান্য।
পেশায় চিকিৎসক মার্শাল কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে দায়িত্ব পালনের পর ২০২০ সালে সিনেটে নির্বাচিত হন। কংগ্রেসে দায়িত্ব পালনের সময়ে তিনি ট্রাম্পের নীতিগুলোর বেশির ভাগই সমর্থন করেছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডাম হ্যামিলটন ভোটারদের জন্য অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছে— এমন অজনপ্রিয় নীতিগুলোর সঙ্গে মার্শালের সম্পর্ককে সামনে আনার চেষ্টা করছেন।
হ্যামিলটন দেশের সবচেয়ে বড় ইউনাইটেড মেথডিস্ট মণ্ডলীর রেভারেন্ড। তিনি নিজেকে ‘স্বাধীনচেতা’ ডেমোক্র্যাট হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তবে মার্শালের অভিযোগ, কানসাসের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য হ্যামিলটন ‘অতিরিক্ত ওয়োক’।

মেইন: রিপাবলিকানদের ঘাঁটিতে ডেমোক্র্যাটদের হানা
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
মেইনের দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স বারবার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন এবং নির্বাচনে জয় ধরে রেখেছেন। তিনি একজন মধ্যপন্থি রিপাবলিকান, যিনি নিজের দলের অন্য অনেক নেতার তুলনায় কিছু ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মতবিরোধে যেতে বেশি প্রস্তুত থেকেছেন।
কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা মনে করছেন, সাবেক মেইন সিনেট প্রেসিডেন্ট ও সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা ট্রয় জ্যাকসন কলিন্সের প্রায় ৩০ বছরের সিনেট ক্যারিয়ারের অবসান ঘটাতে পারেন। জ্যাকসন দেরিতে নির্বাচনে প্রবেশ করেন। তার আগে ডেমোক্র্যাটদের প্রার্থী ছিলেন গ্রাহাম প্লাটনার। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর প্লাটনার প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ান।
শক্তিশালী সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির চেয়ারম্যান কলিন্সের পক্ষে রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি এবং মেইনের হয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার রেকর্ড। তিনি নিজের দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার অতীত রেকর্ডও ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন।
জ্যাকসন পালটা বোঝানোর চেষ্টা করছেন, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কলিন্স ব্যর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি ব্রেট কাভানার নিয়োগের পক্ষে নির্ণায়ক ভোট দেওয়ার মাধ্যমে কলিন্সই সুপ্রিম কোর্টকে ‘রো বনাম ওয়েড’ রায় বাতিলের পথ তৈরি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জ্যাকসন।

আইওয়া: অপ্রত্যাশিতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
অবসর নিতে যাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর জোনি আর্নস্টের আসনটি দখলের জন্য রিপাবলিকান প্রতিনিধি অ্যাশলি হিনসনের প্রচারে ট্রাম্প আইওয়ায় একাধিক সমাবেশ করছেন। নির্বাচনি চক্রের শুরুতে এই লড়াইকে খুব একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনে করা হয়নি।
আইওয়ার কংগ্রেসনাল প্রতিনিধিদলে বর্তমানে কোনো ডেমোক্র্যাট নেই। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প রাজ্যটিতে ১৩ শতাংশ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন। ২০০৮ সালের পর আইওয়া থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি।
তবে ইরান যুদ্ধের কারণে বেড়ে যাওয়া মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ আইওয়ার কৃষকদের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, মধ্যপন্থি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেক হিনসনের জন্য শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন।
টুরেক একজন অঙ্গরাজ্য প্রতিনিধি এবং হুইলচেয়ার বাস্কেটবলে দুইবারের প্যারালিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী।
এবিসি নিউজ অবলম্বনে






-b3e939.jpg)









-attend-a-military-march-in-Tehran-25-10-2026-2c75cd.jpg)




