এফইসিতে সাইবার হামলা, যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের প্রচার ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ বন্ধ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
প্রতীকী ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
প্রতীকী ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে সাইবার হামলার মুখে পড়েছে দেশটির ফেডারেল ইলেকশন কমিশন (এফইসি)। এতে নির্বাচনি প্রচারের ব্যয়ের তথ্য জমা ও প্রকাশের ইলেকট্রনিক সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর খরচের তাৎক্ষণিক হিসাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, কমিশনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইল থেকে সাইবার হামলার বিষয়টি জানা গেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নির্ধারিত হবে।

নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রাজনৈতিক দল, সুপার প্যাক এবং গোপনে অর্থায়নকারী ‘ডার্ক মানি’ গোষ্ঠীগুলো প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। এ সময়ে কমিশনের নির্দিষ্ট সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রচার ব্যয়ের তাৎক্ষণিক বিবরণ প্রকাশে বিঘ্ন ঘটেছে।

এক বিবৃতিতে এফইসি জানিয়েছে, তাদের ইলেকট্রনিক ফাইলিং সিস্টেম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সেবা পুনরায় চালু করতে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন। তবে কমিশনের ওয়েবসাইটে আগের প্রতিবেদন খোঁজার সুবিধা চালু রয়েছে।

সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে সিস্টেমটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার রাতে এফইসি জানায়, সমস্যাটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং তা সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি কমিশন।

এফইসি স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি ভোটগ্রহণ পরিচালনার দায়িত্ব তাদের নয়। তাই এই প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ভোটারদের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব পড়বে না।

তবে ই-ফাইলিং সেবা বন্ধ থাকায় রাজনৈতিক দল ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো ২৪ ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকা জরুরি ব্যয়ের বিবরণী দাখিল করতে পারছে না। এসব প্রতিবেদনে নির্বাচনি আসনভিত্তিক প্রচার ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়।

রাজনৈতিক অর্থায়নসংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স প্রতিষ্ঠান এমবিএ কনসাল্টিং গ্রুপের প্রধান নির্বাহী স্টিভেন মিলি বলেন, “গত ২৬ বছরের পেশাগত জীবনে আমি এমন ঘটনার মুখোমুখি কখনো হইনি।”

কমিশনের এক কর্মকর্তা বিভিন্ন কমপ্লায়েন্স প্রতিষ্ঠানকে পাঠানো ইমেইলে লেখেন, “একজন সাইবার হামলাকারী সিস্টেমে ঢোকার চেষ্টা চালিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সাময়িকভাবে ওয়েব সেবা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি।”

যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিআইএসএ) ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। সংস্থা দুটি বিষয়টি এফইসির ওপর ছেড়ে দিয়েছে।

প্রচার ব্যয়ে রেকর্ড

রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞাপন প্রচার ও আগাম বুকিংয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১২১ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচনের রেকর্ড গড়েছে এবারের ভোট।

এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনে সব আসন মিলিয়ে প্রচার ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ১২০ কোটি ডলার। এবারের ব্যয় সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পেছনেই খরচ হয়েছিল ৩২০ কোটি ডলার।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কয়েকটি ঐতিহ্যগত রিপাবলিকান-সমর্থিত এলাকায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের অবস্থান শক্ত হওয়ায় দুই পক্ষের প্রচার ব্যয় বেড়েছে। এ ব্যয়ের বড় অংশ আসছে ধনকুবের ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা সুপার প্যাক গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে।

নির্বাচনি ব্যয় পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওপেনসিক্রেটসের গবেষণা পরিচালক ব্রেনডান গ্লাভিন জানান, নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে সুপার প্যাক ও ডার্ক মানি গোষ্ঠীগুলো প্রতিদিন গড়ে ৫ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করছে। শুধু ২০ অক্টোবরেই ২৫ কোটি ডলারের বেশি ব্যয়ের তথ্য জমা পড়েছিল।

গ্লাভিন বলেন, “নির্বাচনের এই শেষ দিনগুলোতে কারা কত টাকা ঢালছে তা জানার একমাত্র উপায় ই-ফাইলিং। তাই এই মুহূর্তে সেবা বন্ধ থাকাটা ভোটারদের অন্ধকারে রাখার মত এক বড় উদ্বেগের বিষয়।”

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad