নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের বার্তা— আরেকটি নাকবা হতে দেবেন না

গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের নীতিকে ‘ক্ষতিকর ঔপনিবেশিক পরিকল্পনা’ আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। অভিযোগ করেছেন, এসব এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাত করে ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারা চলছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় বিপুল পরিমাণ ফিলিস্তিনির বাস্তুচ্যুতির ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তারা যেন আরেকটি ‘নকবা’ (বিপর্যয়) হতে না দেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগে দেওয়া এক ভিডিও বক্তব্যে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় মাহমুদ আব্বাস এ বছরও নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পারেননি। রামাল্লা থেকে তার রেকর্ড করা ভিডিও বক্তব্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকক্ষে সম্প্রচার করা হয়।
ভিডিও বক্তব্যে আব্বাস বলেন, গাজায় মানবিক সংকট ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূখণ্ডে টিকে থাকা ও অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়েছে।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনাকে ফিলিস্তিনিরা ‘নাকবা’ বা বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। সে ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আব্বাস বলেন, আরেকটি নাকবা এবং ১৯৪৮ সালের মতো আরও হত্যাযজ্ঞ চলতে দেবেন না।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা আমাদের মাতৃভূমি ছেড়ে যাব না। আমরা বাস্তুচ্যুতি মেনে নেব না। আর আমাদের ভবিষ্যৎ আমাদের হয়ে অন্য কাউকে নির্ধারণ করতে দেবো না।’
ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আর কতদিন অপেক্ষা করা হবে— আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এমন প্রশ্ন রেখে আব্বাস বলেন, কতদিন কিছু দেশ ইসরায়েলের ব্যাপারে নীরব থাকবে? অথবা এমন অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখবে, যা আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে?’
গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযানে বিপুল প্রাণহানির কথা তুলে ধরে ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন আব্বাস।
ভিসা না দেওয়ার প্রতিবাদ
আব্বাসের বক্তব্যের বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি। ওয়াশিংটন বলেছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অরগানাইজেশন (পিএলও) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার ও শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। এ কারণেই ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে।
আব্বাস যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তার প্রতিনিধিদলকে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’ বলে অভিহিত করেন। বলেন, ‘জাতিসংঘের সদরদপ্তরে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলকে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
আব্বাস আরও বলেন, ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম চালিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পালন করেছে, সহিংসতা ও সন্ত্রাস প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।
আব্বাসের বক্তব্য শেষ হওয়ার পরই জাতিসংঘে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে নেতানিয়াহুর ভাষণ। তার বক্তব্যের আগে নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদরদপ্তরের আশপাশে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ শুরু হয়। শত শত বিক্ষোভকারী গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবিতে স্লোগান দেন।
নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে ফিলিস্তিনি মিশন বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের তার বক্তব্যের সময় সম্মিলিতভাবে ওয়াকআউটের আহ্বানও জানিয়েছিল। পরে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় একাধিক প্রতিনিধিদল হল থেকে বেরিয়ে যায়।

















-10a2b7-256x144.webp)


