অর্থসংকটে গাজায় খাদ্যসহায়তায় কাটছাঁট, আরও কমতে পারে সহায়তা

অর্থসংকটে গাজায় খাদ্যসহায়তা কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, গাজায় তিন লাখ ৭৫ হাজার মানুষের জন্য নগদ সহায়তার পরিমাণ এরই মধ্যে ৪০ শতাংশ কমানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ না এলে সামনে আরও কাটছাঁট করতে হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
ডব্লিউএফপি বর্তমানে গাজায় প্রায় ১৫ লাখ মানুষকে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য ও মানবিক সহায়তা দিচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রতি মাসে খাদ্যসহায়তা পায়।
নিজেদের ওয়েবসাইটে ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, তহবিলের ঘাটতির কারণে এখন সহায়তার পরিমাণ কমাতে হচ্ছে। সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ছয় মাসে গাজা ও পশ্চিম তীরে খাদ্যসংকটে থাকা প্রায় ২০ লাখ মানুষের সহায়তা চালিয়ে যেতে সংস্থাটির অতিরিক্ত ৩৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার প্রয়োজন।
এই সংকট এমন সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন যুদ্ধবিরতির পর গাজায় খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। জুলাইয়ে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো জানিয়েছিল, মানবিক সহায়তা ও বাণিজ্যিক সরবরাহ বাড়ায় খাদ্যনিরাপত্তা ও শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে সেই অগ্রগতি খুবই ভঙ্গুর। গাজার ১৪ লাখ মানুষ এখনো তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছেন, যা জনসংখ্যার প্রায় ৬৭ শতাংশ।
সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও গাজার ব্যবসায়ীদের মধ্যে কর ও ফি নিয়ে বিরোধের জেরে বাণিজ্যিক পণ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাফাহ ও অন্যান্য সীমান্তপথের পরিস্থিতিও মানবিক সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলছে।
গাজায় সাম্প্রতিক উন্নতির বড় একটি কারণ ছিল মানবিক খাদ্য ও পুষ্টিসহায়তা বৃদ্ধি। জুলাইয়ের হিসাবে, শুধু মে মাসেই প্রায় ১৫ লাখ মানুষ খাদ্য প্যাকেজ পেয়েছিলেন এবং প্রায় ৭ লাখ মানুষ নগদ সহায়তার আওতায় এসেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় বাজার, জীবিকা ও খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ায়নি। ফলে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে গেলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।
ডব্লিউএফপি বলছে, গাজায় খাদ্যনিরাপত্তার সাম্প্রতিক অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা, বাণিজ্যিক সরবরাহ এবং জরুরি অর্থায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অর্থের ঘাটতি অব্যাহত থাকলে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর সহায়তাই অগ্রাধিকার দিয়ে বাকিদের জন্য সহায়তা আরও কমাতে হতে পারে।



















