ইন্দোনেশিয়াকে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ ছাড়ার আহ্বান জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। ছবি: সংগৃহীত

গাজা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিসে’ (বিওপি) অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে ইন্দোনেশিয়াকে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। তার অভিযোগ, গাজা-সংক্রান্ত এই উদ্যোগটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র প্রভাবিট এবং এতে ফিলিস্তিনিদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নেই।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় বার্তা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক আলবানিজ বলেন, ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ইন্দোনেশিয়ার জন্য বোর্ড অব পিসে যুক্ত থাকা ঝুঁকিপূর্ণ।

‘ইন্দোনেশিয়ার সদিচ্ছা আমি বুঝতে পারি। তারপরও আমি মনে করি এটি খুবই বিপজ্জনক। কারণ এর মাধ্যমে একটি অস্বাভাবিক ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ঝুঁকি রয়েছে,’—বলেন আলবানিজ।

ট্রাম্প জানুয়ারিতে গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংঘাত মোকাবিলায় বোর্ড অব পিস গঠনের ঘোষণা দেন। জাতিসংঘের প্রচলিত বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগে ইন্দোনেশিয়া গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। গাজায় মোতায়েনের জন্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতেও (আইএসএফ) সেনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাকার্তা।

তবে বোর্ড অব পিস নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে গাজার ভবিষ্যৎ শাসন ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্ব না থাকায় মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এর সমালোচনা করেছেন। আলবানিজের ভাষায়, ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইসরায়েলের ভূমিকা থাকারই কথা নয়।

কী বলছে ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, বোর্ড অব পিস নিয়ে আলোচনা আপাতত স্থগিত রয়েছে। অর্থাৎ জাকার্তা এখনই সংগঠনটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়নি।

প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এর আগে বলেছেন, উদ্যোগটি ফিলিস্তিনিদের স্বার্থে কাজ না করলে ইন্দোনেশিয়া সরে যাবে। তার সরকারের যুক্তি, বোর্ডে থেকে ইন্দোনেশিয়া সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা বাড়ানো এবং ফিলিস্তিনিদের স্বার্থে প্রভাব রাখার সুযোগ পেতে পারে।

ইন্দোনেশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। কিন্তু বোর্ড অব পিসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশটির অভ্যন্তরেও সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে মুসলিম সংগঠনগুলো ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করা একটি মার্কিন নেতৃত্বাধীন কাঠামোয় ইন্দোনেশিয়ার অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

আলবানিজ ইন্দোনেশিয়াকে বরং ‘হেগ গ্রুপে’র সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশ নিয়ে গঠিত এই জোট আন্তর্জাতিক আইন ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহির পক্ষে কাজ করছে।

আলবানিজের মতে, বোর্ড অব পিসে থাকার মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি নিচ্ছে। কারণ এই উদ্যোগের নিয়মকানুন নির্ধারণে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবই বেশি।

এদিকে গাজা নিয়ে ট্রাম্পের বৃহত্তর পরিকল্পনাও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতিতে জিম্মি ও ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি হলেও হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের প্রশ্নে অগ্রগতি থমকে আছে। গাজায় ইসরায়েলি হামলাও অব্যাহত রয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad