হুতিদের রুখতে সৌদি ও ইয়েমেনে সেনা পাঠাচ্ছে সিরিয়া

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
সৌদি আরবের রিয়াদে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। ৪ নভেম্বর ২০২৬। ছবি: সৌদি নিউজ এজেন্সি/রয়টার্স
সৌদি আরবের রিয়াদে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। ৪ নভেম্বর ২০২৬। ছবি: সৌদি নিউজ এজেন্সি/রয়টার্স

ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মোকাবিলা এবং ইয়েমেন সরকারকে শক্তিশালী করতে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াচ্ছে সিরিয়া। এ লক্ষ্যে সৌদি আরব ও ইয়েমেনে হাজার হাজার সিরীয় সেনা পাঠানো হচ্ছে। এরই মধ্যে দুই দেশের সীমান্তের উভয় পাশে কয়েক শ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইয়েমেনের সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তারা।

সংবাদ সংস্থা এএফপিকে ইয়েমেনের তিনটি পৃথক সামরিক সূত্র এবং একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের হয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রায় ৩ হাজার সেনা পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।

ইয়েমেনের প্রধান সরকারি দল প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ সপ্তাহে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সৌদি আরব সফরের সময় এ বিষয়ে সমঝোতা হয়। ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তিসহ বিভিন্ন সহযোগিতা চুক্তি সই হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র বলেন, “হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রায় ৩ হাজার সেনা পাঠানোর বিষয়ে সিরিয়া ও সৌদি আরব-দুই পক্ষ একমত হয়েছে।”

ইয়েমেনের একজন সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে সীমান্তের ইয়েমেন অংশে মোতায়েন থাকা সিরীয় সেনারা ওই এলাকায় হুতিদের বিরুদ্ধে ড্রোন অভিযান পরিচালনা করছেন।

তবে সিরিয়ার পক্ষ থেকে সেনা পাঠানোর খবর অস্বীকার করা হয়েছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানাকে (সানা) দেওয়া এক বক্তব্যে সিরিয়ার এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইয়েমেনে সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

সিরিয়ার ওই সূত্র বলেছে, দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার বর্তমান ক্ষেত্র মূলত সেনাদের প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়। আগামী মাসে সিরিয়ায় সৌদি কর্মকর্তাদের সমন্বয় সফর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে এ সহযোগিতা ভবিষ্যতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি কিংবা মক্কা চুক্তিতে সিরিয়ার অন্তর্ভুক্তির পথ তৈরি করতে পারে।

এর আগে শুক্রবার রয়টার্স দুই সিরীয় সামরিক সূত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, ইয়েমেনের হুতিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সামরিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমিতসংখ্যক সেনা পাঠিয়েছে সিরিয়া।

এদিকে বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ার নতুন সরকারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠেছে সৌদি আরব। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে এখন মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে সামরিক সহায়তা চাইছে রিয়াদ। লোহিত সাগরের উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখা হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের বিরোধও নতুন করে তীব্র হয়েছে।

গত জুলাইয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি ভূখণ্ডে হামলাও জোরদার করেছে গোষ্ঠীটি। এসব হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের অর্থনীতি বহুমুখী করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad