সরকার গঠনে আইজেনকটকে সমর্থন দেবে ইসরায়েলের প্রধান আরব জোট

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ইসরায়েলের এবারের জাতীয় নির্বাচনে আরব পার্টিগুলো অভাবনীয় ফলাফল অর্জন করেছে, দুই দল জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম আসন পেয়েছে মোট ১৯টি। নির্বাচনের পর আরব দলগুলোর নেতাদের উল্লাস। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের এবারের জাতীয় নির্বাচনে আরব পার্টিগুলো অভাবনীয় ফলাফল অর্জন করেছে, দুই দল জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম আসন পেয়েছে মোট ১৯টি। নির্বাচনের পর আরব দলগুলোর নেতাদের উল্লাস। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব দলগুলো। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী জোটের নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বৃহত্তম আরব রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট লিস্ট।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জোটটি জানিয়েছে, নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব আইজেনকটকে দিতে তারা প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সুপারিশ করবে।

আল-জাজিরা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এর আগে আরেক আরব দল ইউনাইটেড আরব লিস্টও (রা’আম) একই সিদ্ধান্ত জানায়। আরব দলগুলো এ অবস্থানে অনড় থাকলে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটবে।

এক বিবৃতিতে জয়েন্ট লিস্ট জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট হারজগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ জানাবে তারা।

গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দুটি রাজনৈতিক জোট যৌথভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে জয়েন্ট লিস্টের আসন ১১টি, রা’আমের আটটি। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে আরব দলগুলোর এটাই ইতিহাসের সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে তাদের সমর্থন এখন নির্ধারক হয়ে উঠেছে।

কেউই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়

নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইহুদি বিরোধী দলগুলোর জোট পেয়েছে ৪৮টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। অর্থাৎ, কোনো পক্ষই এককভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। দুই আরব জোটের ১৯ আসন বিরোধীদের সঙ্গে যুক্ত হলে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ আসনের সমর্থন তৈরি হয়।

তবে আরব দলগুলোর সমর্থন মানেই তাদের সরকারে অন্তর্ভুক্তি নয়। অতীতেও ইসরায়েলের আরব রাজনৈতিক দলগুলো সরকার গঠনের আলোচনায় প্রভাব রাখলেও সরাসরি ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার ক্ষেত্রে নানা রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়েছে।

ইসরায়েলের প্রায় ২০ শতাংশ নাগরিক ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আরব। নেতানিয়াহু সরকারের নীতি, আরব অধ্যুষিত এলাকায় অপরাধ ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং গাজা যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষের কারণে এবারের নির্বাচনে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে।

নেতানিয়াহুর জন্য নতুন ধাক্কা

এদিকে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্র অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমও এবার তাকে সমর্থনের সুপারিশ করেনি। দলটি আইজেনকটের পক্ষেও অবস্থান নেয়নি। মূলত অতি-রক্ষণশীল ইহুদি তরুণদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রশ্নে নেতানিয়াহুর সঙ্গে দলটির বিরোধ তৈরি হয়েছে। আগের পাঁচটি নির্বাচনের পর দলটি নেতানিয়াহুর পক্ষ নিয়েছিল।

এদিকে গাজা যুদ্ধ, নিরাপত্তা ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়েছে। তিন বছর ধরে যুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায়ও এর প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকট নির্বাচনী প্রচারে জাতীয় ঐক্য পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক বিভাজন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হারজগ অবশ্য পার্লামেন্টে কোন প্রার্থীকে বেশি দল সমর্থন করছে, সেটি বিবেচনায় নিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার নিজের। সাধারণত সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি— এমন নেতাকেই তিনি দায়িত্ব দেন।

প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রার্থীকে ২৮ দিনের মধ্যে সরকার গঠন করতে হয়। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যায়। সেই প্রক্রিয়ায় আইজেনকট এগিয়ে থাকলেও আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে। কারণ, তার সম্ভাব্য জোটের কয়েকটি দল অতীতে আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতার বিরোধিতা করেছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad