কাতারের এলএনজি ট্যাংকারে হামলা, জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তায় নতুন উদ্বেগ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
গত শুক্রবার উপসাগরীয় জলসীমায় অজ্ঞাত বস্তু আঘাত করে কাতারের একটি এলএনজি ট্যাংকারে। ছবি: সংগৃহীত
গত শুক্রবার উপসাগরীয় জলসীমায় অজ্ঞাত বস্তু আঘাত করে কাতারের একটি এলএনজি ট্যাংকারে। ছবি: সংগৃহীত

উপসাগরীয় জলসীমায় চলাচলের সময় কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) জাহাজে অজ্ঞাত এক বস্তু আঘাত করেছে। তবে জাহাজটির কোনো নাবিক আহত হননি। জাহাজটি নিরাপদ ও চলাচলের উপযোগীও রয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় আরব উপসাগর পেরোনোর সময় ‘আল মায়েদা’ নামের জাহাজটিতে এ ঘটনা ঘটে। রোববার কাতারের গ্যাস পরিবহন প্রতিষ্ঠান নাকিলাত বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নাকিলাত বলছে, আঘাতের ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে এ ঘটনা উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

নাকিলাতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় আরব উপসাগর দিয়ে যাওয়ার সময় আল মায়েদায় অজ্ঞাত বস্তু আঘাত করে। তবে কী ধরনের বস্তু ছিল, কোথা থেকে এসেছে বা ঠিক কোন অবস্থানে জাহাজটি আক্রান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিস্তারিত জানায়নি।

জাহাজটির অবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে জানিয়ে নাকিলাত বলেছে, জাহাজটি সচল থাকলেও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন শেষ হয়নি।

কাতার নিউজ এজেন্সিও নাকিলাতের বিবৃতির বরাতে খবরটি প্রকাশ করেছে। তবে কাতারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ বা গোষ্ঠীকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়নি।

জাহাজে আঘাতের ঘটনাকে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা বলার মতো তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে হামলার প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক ঘটনার দায় নিয়ে পালটা অভিযোগ উঠছে।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই জলপথ এবং সংলগ্ন উপসাগরীয় নৌপথ দিয়ে যায়। প্রণালিতে চলাচল সীমিত বা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে জাহাজের বীমা, পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানি সরবরাহের সময়সূচিতে প্রভাব পড়ে। কাতার বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি রপ্তানিকারক। দেশটির গ্যাসবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হলে এশিয়া ও ইউরোপের আমদানিকারক বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে।

কাতার একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগে মধ্যস্থতা করছে। হরমুজ খুলে দেওয়ার বিষয়ে দুই দিনের একটি পরিকল্পনা নিয়ে দোহায় আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এই পরিস্থিতিতে কাতারের জাহাজে আঘাতের ঘটনা দেশটির কূটনৈতিক ভূমিকা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা— দুই ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

তবে আল মায়েদার ঘটনায় প্রাণহানি বা পরিবেশদূষণ না হওয়ায় তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতি সীমিত। এখন তদন্তে বস্তুটির উৎস, জাহাজের ক্ষতির মাত্রা ও ঘটনার পেছনের কারণ নির্ধারণই গুরুত্বপূর্ণ। উপসাগরীয় জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর সমন্বয়ও জরুরি হয়ে উঠেছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad