ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেনকে ‘কুঠার’ দিয়ে হামলা, জানাল আমিরাত

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটের ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। ঘটনার সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রশংসিত হন তিনি। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটের ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। ঘটনার সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রশংসিত হন তিনি। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ক্যাপ্টেনকে হামলায় ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ (কুঠার) ব্যবহার করেছিলেন সহকারী পাইলট। তিনি ক্যাপ্টেনের কাছ থেকে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে যাত্রী ও ক্রুরা হস্তক্ষেপ করে তাকে কাবু করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ স্থিতিশীল করেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ হলো এক ধরনের বিশেষ কুঠার, যা সাধারণত উড়োজাহাজের ককপিটে জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়। দুর্ঘটনা বা জরুরি অবস্থায় বিমানের ককপিট, কেবিন কিংবা ভেতরের কোনো অংশ ভেঙে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনতেও এটি ব্যবহার করা হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পাবলিক প্রসিকিউটর জেনারেলকে উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটে হামলার সময় সহকারী পাইলট ‘সন্ত্রাসী হামলা’ চালানোর চেষ্টা করেন। তিনি বিমানটিকে হঠাৎ তীব্রভাবে নিচের দিকে নামিয়ে দিয়েছিলেন। এতে ১৮২ জন আরোহী নিয়ে বিমানটি প্রায় বিধ্বস্ত হতে বসেছিল।

ওমানের কর্তৃপক্ষ এর আগে ওই সহকারী পাইলটকে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করেছিল। তার মধ্যে উগ্রপন্থি মতাদর্শ গ্রহণের লক্ষণ দেখা যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন।

চলমান তদন্ত নিয়ে কথা বলায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি বলেন, পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাই তাকে নিয়োগ দেয়। তবে নিয়োগের সময় তার কতটা যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি। ওমানের পক্ষ থেকে তাকে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করার খবর প্রথম প্রকাশ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

গত বুধবার সকালে ওমানের নাগরিক ওই সহকারী পাইলট কীভাবে ককপিটে কাজ করছিলেন, সেটিই এখন তদন্তকারীদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, যেসব দেশের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশের পাইলটদের ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ ঠেকাতে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে তাদের চুক্তি রয়েছে। ইসরায়েল ও ওমানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

ওমানের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ওই ব্যক্তি দেশটির জাতীয় বিমান সংস্থায় কাজ করতেন। তবে উগ্রপন্থি মতাদর্শের প্রতি তার ঝোঁকের লক্ষণ দেখা যাওয়ায় তাকে বিমান চালানো থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে ওমান এয়ারে প্রশাসনিক কাজে স্থানান্তর করা হয়।

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটে সহপাইলটের হাতে পাইলটের ছুরিকাঘাতের ঘটনায় উড়োজাহাজটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে হয়। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটে সহপাইলটের হাতে পাইলটের ছুরিকাঘাতের ঘটনায় উড়োজাহাজটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে হয়। ছবি: সংগৃহীত

তদন্তের বিস্তারিত নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, সহকারী পাইলটের হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খুঁজে বের করতে মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশের নিরাপত্তা সংস্থা কাজ করছে। এ কাজে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা কয়েকটি দেশও সহায়তা করছে।

শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ এ ঘটনাকে ‘বিপজ্জনক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেন। উগ্রপন্থি কর্মকাণ্ড দমনে কার্যকর পদক্ষেপের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার সুনাম অর্জন করেছে। তবে অতীতে দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে সমালোচনা হলে সরকার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ফলে এ ঘটনা দেশটির সরকারের জন্যও একটি পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সহকারী পাইলটের ব্যক্তিগত ও পেশাগত পটভূমি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে আর তেমন কোনো তথ্য জানা যায়নি। তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি ফ্লাইট পরিচালনার দিন পর্যন্ত সক্রিয় ছিল। পরে সেটি মুছে দেওয়া হয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ওই সহকারী পাইলট ‘ইসলামপন্থি উগ্রবাদে’ জড়িয়ে পড়েছিলেন। তার ভাষ্য, ওই ব্যক্তি ‘খুব সম্ভবত’ বিমানটিকে ভূপাতিত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।

নেতানিয়াহু বলেন, যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে কাবু করে বেঁধে ফেলার পর তিনি ক্রুদের উদ্দেশে বারবার বলছিলেন, ‘আমাকে মেরে ফেলো, আমাকে মেরে ফেলো।’ তিনি বলেন, এ থেকে ‘প্রশ্নাতীতভাবে স্পষ্ট’ যে ওই ব্যক্তি আত্মঘাতী হতে চেয়েছিলেন।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘উড়োজাহাজটিতে অনেক যাত্রী ছিলেন। এর সঙ্গে আমি যে ইসলামপন্থি প্রবণতা ও তার অতীতে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হওয়ার যেসব তথ্য পাওয়ার কথা বললাম, সেগুলো মিলিয়ে দেখলে... আমার মনে হয়... আমরা একটা বেশ ভালো সূত্র পেয়ে যাব।’

তবে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চান না বলেও জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়— ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই কিছু বললে সেটি খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।’

বুধবারের ওই ফ্লাইটে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি। যাত্রার প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিমানটি প্রায় ৩০ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। বিমান ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এও উচ্চতা কমে যাওয়ার তথ্য দেখা যায়। এর কয়েক মিনিট পর বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠায়।

সৌদি আরবে ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণের পর তাবুক বিমানবন্দরে যাত্রীরা। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণের পর তাবুক বিমানবন্দরে যাত্রীরা। ছবি: সংগৃহীত

ককপিটে সহকারী পাইলটের ওপর হামলা ও বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাতের পর যাত্রী ও ক্রুরা হস্তক্ষেপ করেন। তারা হামলাকারীকে কাবু করে বেঁধে ফেলেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নিজেদের হাতে নেন। কিছু সময়ের জন্য বিমানটি জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশ করলেও পরে সৌদি আরবের দিকে ফিরে যায়। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।

হামলায় গুরুতর আহত ক্যাপ্টেন জানিয়েছেন, ছুরিকাঘাতের শিকার হওয়ার পরও তিনি তার অবশিষ্ট শক্তি কাজে লাগিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন। এতে বাইরে থাকা লোকজন, যারা ভেতর থেকে জোরে শব্দ শুনেছিলেন, ককপিটে ঢুকে সহকারী পাইলটকে কাবু করেন এবং বিমানটি স্থিতিশীল করেন।

সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চিকিৎসকেরা ছাড়পত্র দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে ক্যাপ্টেন ও সহকারী পাইলট দুজনকেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ইউএইর নেতৃত্বেই ঘটনার তদন্ত চলছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই তদন্তে অংশ নিচ্ছে।

ইরানের ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ দাবি

এদিকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই বিমানের ককপিটে সংঘাত ও রক্তারক্তির ঘটনাকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের যৌথ ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বলে দাবি করেছে ইরান।

‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বলতে এমন একটি সাজানো ঘটনাকে বোঝায়, যার দায় অন্য পক্ষের ওপর চাপানোর উদ্দেশ্যে সেটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়। তেহরানের অভিযোগ, রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং ইরানের ওপর দায় চাপানোর উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা সাজানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করা এবং ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের অজুহাত তৈরির লক্ষ্যেই নেতানিয়াহু এ পরিকল্পনা করেছেন বলে অভিযোগ তেহরানের।

প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, ঘটনার এক দিন আগে গোপনে আবুধাবি সফর করেন নেতানিয়াহু। সেখানে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এর পরদিন দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটে ককপিটে সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

বিমানের ভেতরে তোলা একটি ছবিতে এক ব্যক্তির টি-শার্টে রক্তের দাগ দেখা যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
বিমানের ভেতরে তোলা একটি ছবিতে এক ব্যক্তির টি-শার্টে রক্তের দাগ দেখা যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের অভিযোগ, ককপিটের ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে তুলে ধরে ওমানের নাগরিক সহকারী পাইলটকে ‘চরমপন্থি’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু।

তেহরান আরও দাবি করেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ হামলার সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং এর পেছনে ইরানের হাত থাকার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন। তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ‘ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্র’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ ঘটনার পেছনে ইরানের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে তারা সরাসরি তেহরানকে দায়ী করেননি।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, হামলায় ইরানের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে দেশটির ওপর ‘কঠোর আঘাত’ হানা হবে। অন্য এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে কোনো ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্যে’র যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

কীভাবে ওই পাইলট ফ্লাইটে ছিলেন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও ওমান এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি। কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা দেশগুলোর পাইলটদের সাধারণত ইসরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয় না।

ওমানের নাগরিক ওই সহকারী পাইলট কীভাবে ওই বিমানের ককপিটে ছিলেন— এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, এখানে স্পষ্টতই একটি ফাঁক ছিল। আমিরাত সরকারের পূর্ণ সহযোগিতায় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি এ বিষয়টিরও সমাধান করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষ কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ঘটনাটি নিয়ে ইসরায়েলও পৃথক তদন্ত করেছে। বিবিসি আরবিকে ইসরায়েলের এক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ওই তদন্তের প্রাথমিক ফলাফলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, হামলাকারীর উদ্দেশ্য ছিল বিমানটিকে বিধ্বস্ত করা। সূত্রটির ভাষ্য, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নেতৃত্বে তদন্তটি পরিচালিত হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তেল আবিবে পৌঁছানোর পর বিমানের যাত্রীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ছুরিকাঘাতে আহত ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ‘নায়ক’ বলে অভিহিত করেছেন নেতানিয়াহু ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তাল হাসপাতালে গিয়ে মাচ্ছারের সঙ্গে দেখা করেন। পরে ভারতীয় দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, তিনি সুস্থ আছেন এবং সেরে উঠছেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement