সিইসি-র ইস্তফার দাবিতে রাষ্ট্রপতির দরবারে বিরোধী জোট, উত্তপ্ত দিল্লি

মুখ্যনির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ঘটনাবলি নিয়ে যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষকে এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেও দিল্লি পুলিশ তা আটকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। যন্তর মন্তর ও তার আশপাশের এলাকায় ২০ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত নজরদারির জন্য তিনশোটির বেশি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যন্তর মন্তর এবং তার চার কিলোমিটারের মধ্যে ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বারোটি ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ এই কর্মসূচির অনুমতি না দেওয়ার পেছনে অতীতে দীর্ঘমেনি ও বিশৃঙ্খল আন্দোলনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলন প্রতিহত করতে দূরপাল্লার ট্রেন, রাজধানী এক্সপ্রেস এবং মেট্রো পরিষেবা স্থগিত বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে আন্দোলনকারীদের দিল্লিতে পৌঁছানো আটকাতে রেল ও প্রশাসন কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভিমোহনার বেঞ্চ অত্যন্ত কড়া পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে জানায় যে মাছি মারতে কেউ হাতুড়ি চালায় না। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের মৌলিক অধিকারের কথা মাথায় রেখে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে শনিবার মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখা যাবে না এবং যাতায়াতের রাস্তাগুলি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
অন্যদিকে, ভোটচুরির অভিযোগ নিয়ে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শীর্ষ নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন এবং জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফাসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন। বিরোধীদের দাবি, রাষ্ট্রপতি তাঁদের অভিযোগ মন দিয়ে শুনেছেন এবং অভিযোগের সপক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ ও নথি জমা দিতে বলেছেন। তথ্যসূত্র: আনন্দ বাজার।













-00acda-256x144.webp)
-8c40a1-256x144.webp)
-01d514-256x144.webp)
