ভারত-নেপালে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণ গেল ৭০ জনের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
টানা বর্ষণে বন্যার কবলে ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনৌর একটি এলাকা। ছবি: এএনআই
টানা বর্ষণে বন্যার কবলে ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনৌর একটি এলাকা। ছবি: এএনআই

ভারত ও নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তর প্রদেশেই মারা গেছেন ৫৬ জন। নেপালে প্রাণ গেছে আরও ১৪ জনের। দেশটিতে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১১ জন। প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় আরও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে নেপাল কর্তৃপক্ষ।

ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন জানিয়েছে, দেশটির সাতটি রাজ্যের ৩০টি নদী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পরিস্থিতি ‘গুরুতর’ পর্যায়ে রয়েছে। গঙ্গা, গণ্ডক, কোসি, বাগমতী ও নর্মদাসহ কয়েকটি বড় নদীর পানি বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ভারতের সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উত্তর প্রদেশে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত রাজ্যটিতে ৬৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অথচ এ সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাত্র ৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার। অর্থাৎ স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ে ৬৩টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৫৬ জনের মৃত্যু ও ৪৬ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক হাজারের বেশি বাড়িঘর। পানিবন্দি এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভারতের পাশাপাশি নেপালেও পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত ৪৯টি জেলায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। দেশটির ৭৭ জেলার অর্ধেকেরও বেশি এখন বন্যা বা আকস্মিক বন্যার উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। প্রধান নদী ও উপনদীগুলোর পানি ক্রমাগত বাড়ছে।

নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসে এ পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু ও ১১ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি বন্যা ও ভূমিধসে অপটিক্যাল ফাইবার ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিছু এলাকায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে।

নেপালের রহুগঙ্গা নদীর পানিতে একটি ৪০ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও প্রকল্পটি পুনরায় সচল করতে একটি কারিগরি দল পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পানি সম্পদ ও জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ।

শুধু বন্যা নয়, ভারী বৃষ্টির কারণে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসও হয়েছে। দেশটির বাগলুং জেলার নিশি খোলা গ্রামে ঘুমন্ত অবস্থায় একটি বাড়ির ওপর ভূমিধস আছড়ে পড়ে তিন শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলীয় মানাং জেলায় সাত হাজার ১২৬ মিটার উঁচু হিমলুং হিমালের বেসক্যাম্পে তুষারধসে ১০ স্থানীয় শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন। বিদেশি পর্বতারোহীদের জন্য তাঁবু স্থাপনের সময় তুষারধসের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বিদেশি পর্বতারোহীরা সেখানে ছিলেন না।

নেপালের জন্য এবারের পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগের, কারণ মাত্র এক মাস আগেই দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছিল। গত মাসের সেই দুর্যোগে প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। সেই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া ও নুয়াকোট জেলাকেও নতুন করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে আপাতত ওই দুই এলাকাকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়নি।

ভারতেও নদীর পানি বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের পর্যবেক্ষণ, সাতটি রাজ্যের ৩০টি স্টেশনে নদীর পানি বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে বৃষ্টি কমে গেলেও উজান থেকে নেমে আসা পানি ও নদীর স্রোতের কারণে নতুন করে বন্যার বিস্তার ঘটতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি, কাঠমান্ডু পোস্ট, রয়টার্স, এএফপি

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement