থাইল্যান্ডে বন্যায় ক্ষতি ৩৩ কোটি ডলার, আক্রান্ত ৬ লাখ বাড়ি

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ভারী বৃষ্টির মধ্যে থাইল্যান্ডের ব্যাংককের একটি বাজারে বন্যার পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
ভারী বৃষ্টির মধ্যে থাইল্যান্ডের ব্যাংককের একটি বাজারে বন্যার পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

থাইল্যান্ডে গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৪১টি প্রদেশে বন্যা দেখা দিয়েছে। দেশ জুড়ে বন্যায় অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩২ কোটি ৭০ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দুর্যোগে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫ লাখ ৮০ হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজধানী ব্যাংককের বিভিন্ন এলাকায় এখনো বন্যার পানি থাকায় সোমবার হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। গত সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিনে ৩২০ মিলিমিটার (১২ দশমিক ৬ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেপ্টেম্বরে পুরো মাসে নিচু ও বিস্তৃত এই শহরে সাধারণত যতটা বৃষ্টি হয়, মাত্র কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত ছিল তার প্রায় সমান। এতে এলাকার পর এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব উনসিত সাম্পুনথারাত এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকায় বসবাসকারী ৮০ হাজারের বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না।’ ত্রাণ কার্যক্রমে ভ্রাম্যমাণ রান্নাঘর ও নৌকা কাজে লাগানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার মধ্যেই তিনি বলেন, ‘বন্যার পুরো সময় এবং পানি নেমে যাওয়ার পর অন্তত আরও সাত দিন সব বাসিন্দাকে দিনে তিন বেলা খাবার দেওয়াই লক্ষ্য।’

বন্যায় অর্থনৈতিক ক্ষতি

দেশ জুড়ে বন্যায় অন্তত ১১ বিলিয়ন বাত (৩২ কোটি ৭০ লাখ ডলার) অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন রাংসিট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আত পিসানওয়ানিচ।

ব্যাংককে বন্যাকবলিত এলাকায় বাজারের কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এক নারী। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
ব্যাংককে বন্যাকবলিত এলাকায় বাজারের কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এক নারী। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘বন্যার কারণে চলতি বছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমে যেতে পারে। তৃতীয় প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধিও প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ১ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে।’

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ থাইল্যান্ড করোনা মহামারির পর থেকে আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে আগের প্রান্তিকে ২ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় এই হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

আত বলেন, ব্যাংকক ও দেশটির পূর্বাঞ্চলেই বন্যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে দেশের অন্যান্য এলাকায় শিল্প ও কৃষিখাত ক্ষতির মুখে পড়বে।

পানির ওপর ভাসমান বাজার

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংককের বাংল কপি এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে কোমরসমান পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করেছেন বাসিন্দারা। টানা বৃষ্টিতে বন্যা দেখা দেওয়ার তিন দিন পরও সেখানে পানি ছিল। কিছু বিক্রেতা প্লাস্টিকের ভাসমান বাক্স ও ড্রামের ওপর দোকান সাজিয়ে পণ্য বিক্রি করেন।

ব্যাংককে বন্যাকবলিত একটি বাজারের পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
ব্যাংককে বন্যাকবলিত একটি বাজারের পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

ব্যাংকক নগর প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, রাজধানীতে অন্তত ৫ হাজার ৯০১ জন বাসিন্দা ২৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছেন।

নরম মাটির ওপর নদীর বদ্বীপ এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১ দশমিক ৫ মিটার (৫ ফুট) উচ্চতায় গড়ে উঠেছে ঘনবসতিপূর্ণ ব্যাংকক। শহরটি প্রতিবছর কয়েক মিলিমিটার করে দেবে যাচ্ছে। ৮৪ লাখের বেশি মানুষের এই শহরে ছয় মাসব্যাপী বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই বন্যার সঙ্গে লড়াই করতে হয়।

এদিকে আরও পূর্বে উপকূলীয় প্রদেশ রেয়ংয়ে সোমবার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রদেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের পাশে অবস্থিত। বন্যার পানি বেড়ে দুটি জলাধারের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত বছর দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় তিন দিনে ৬৩০ মিলিমিটার (২৫ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এতে অন্তত ১৪৫ জনের মৃত্যু হয়। পানিতে তলিয়ে যায় ৩৩ হাজারের বেশি বাড়ি। স্কুল, হাসপাতাল ও মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement