রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইইউয়ের নতুন নিষেধাজ্ঞা, কালো তালিকায় ১৬৪৬ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান

রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নতুন করে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথে এগিয়েছে। ইইউয়ের রাষ্ট্রদূতরা এবার এক হাজার ৬৪৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। এর বেশির ভাগই রাশিয়ার সামরিক-শিল্প খাতের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি রাশিয়ার ‘হাইব্রিড কর্মকাণ্ডে’র বিরুদ্ধে পৃথক নিষেধাজ্ঞাও এক বছর বাড়িয়েছে ইইউ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার এ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় একমত হন ইউরোপীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা। আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হলে এটি ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর একসঙ্গে সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞার তালিকা হবে।
২২তম এই নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, বিশেষ করে ইস্কান্দার-এম উৎপাদন ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান, রকেট ইঞ্জিন ও কঠিন জ্বালানি প্রস্তুতকারক, ড্রোন নির্মাতা এবং সাবমেরিন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করা হয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়া অধিকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৭৭ জন রুশ রাজনীতিকও তালিকায় থাকছেন। রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তার অভিযোগে উত্তর কোরিয়ার সাত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হচ্ছে।
ইইউ রাষ্ট্রদূতদের সম্মতির পর প্যাকেজটি আগামী সোমবার ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের কথা রয়েছে। নতুন তালিকা যুক্ত হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইইউর নিষেধাজ্ঞার তালিকা প্রায় ৫০ শতাংশ বড় হবে। তবে এবার বড় ধরনের নতুন বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ থাকছে না, মূল লক্ষ্য রাশিয়ার সামরিক-শিল্প অবকাঠামো ও যুদ্ধ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার নতুন তালিকার পাশাপাশি রাশিয়ার ‘হাইব্রিড কর্মকাণ্ডে’র বিরুদ্ধে পৃথক নিষেধাজ্ঞাও এক বছর বাড়িয়েছে ইইউ। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কাউন্সিল জানায়, এই নিষেধাজ্ঞা ২০২৭ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
ইইউয়ের অভিযোগ, রাশিয়া বিদেশে তথ্য বিকৃতি ও হস্তক্ষেপ, সাইবার হামলা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় নাশকতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার মতো কর্মকাণ্ড অব্যাহত ও জোরদার করেছে।
এ ব্যবস্থার আওতায় বর্তমানে ৮০ ব্যক্তি ও ২০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের সম্পদ জব্দ থাকবে এবং ইইউয়ের নাগরিক ও কোম্পানিগুলো তাদের অর্থ বা আর্থিক সম্পদ দিতে পারবে না। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের ইইউতে প্রবেশ বা ইইউর ভূখণ্ড দিয়ে ট্রানজিটও নিষিদ্ধ।
তবে নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়েও ইইউয়ের ভেতরে কিছু স্বার্থের সংঘাত দেখা যাচ্ছে। এস্তোনিয়া একটি রুশ কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। কারণ ওই কোম্পানি এস্তোনিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানে ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল সরবরাহ করে। বিকল্প সরবরাহকারী খোঁজা হলেও আপাতত সরবরাহ বন্ধ হলে ইউরোপীয় কোম্পানিটির ওপর চাপ পড়তে পারে বলে এস্তোনিয়া জানিয়েছে।
অন্যদিকে লিথুয়ানিয়া রুশ খাদ্যশস্যের ইইউ ভূখণ্ড দিয়ে ট্রানজিট বন্ধ এবং রাশিয়ার কৃষি খাতের কয়েকজনকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছে।
নতুন পদক্ষেপগুলো এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি ইউরোপ রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ইইউ বলছে, শুধু যুদ্ধের অর্থায়ন ঠেকানো নয়, রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা ও ইউরোপ জুড়ে প্রভাব বিস্তারের নেটওয়ার্ককে সংকুচিত করাও এ নিষেধাজ্ঞার অন্যতম লক্ষ্য।















-d282c7-256x144.webp)


